আদালত

সিঙ্গাপুরের আদানি গ্রুপের সালিসি কার্যক্রমে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

Adani Group building in Singapore with modern architecture. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

ছবি: সংগৃহীত

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

বাংলাদেশের সাথে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে সিঙ্গাপুরের সালিসি আদালতে ভারতের আদানি গ্রুপের সালিসি কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন আসার আগ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

বহুল আলোচিত এই বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে করা রিটিকারি ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ূমের এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি নিয়ে আজ বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্জ এই আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারি আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ূম। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ। আজ শুনানিতে ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ূম পত্রিকায় প্রকাশিত  সংবাদ উদ্ধৃত করে বলেন, গত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে একতরফা চুক্তির সুযোগ নিয়েছে আদানি। এ চুক্তির বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা বিচারাধীন। আদালতের আদেশে তদন্ত চলছে। এতে আদানিকে দেশি-বিদেশি আদালতে জবাবদিহি করার মতো তথ্য-প্রমাণ আসছে। এসব প্রমাণ আদালতে জমা দেওয়া হবে। এ কারণে মধ্যস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে অনুরোধ করে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের রেজিস্ট্রারের কাছে ২ নভেম্বর একটি চিঠি পাঠিয়েছে পিডিবি। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিরোধের ধরন অত্যন্ত জটিল। আর্থিক পরিমাণও অনেক বড়। আদানির অনুরোধ বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান পরিস্থিতি এই বিরোধ মধ্যস্থতায় পাঠানোর জন্য উপযুক্ত নয় বলে মনে করছে পিডিবি। এতে দুই পক্ষের সময় ও অর্থের অপচয় হতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশে কমিটি গঠিত হয়েছে। সে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত চলে আসবে। তাই ওই তদন্ত প্রতিবেদন আসা পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের সালিসি আদালতে ভারতের আদানি গ্রুপের মধ্যস্থতা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা চাচ্ছি।

ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির বৈধতা নিয়ে ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ূমের করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৯ নভেম্বর রুলসহ আদেশ দেন।

হাইকোর্ট তার আদেশে  জ্বালানি ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সচিবকে নির্দেশ দেন। আদালত তার আদেশে বলেন, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বরের চুক্তির (ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি) বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হলো। আর কমিটি গঠনের ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া চুক্তি সম্পাদনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে (বিবাদী) নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সাথে চুক্তি সম্পাদনের আগে নেগোশিয়েশন (দর-কষাকষি নিয়ে আলোচনা), যদি হয়ে থাকে, সে–সংক্রান্ত সব তথ্য আদেশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যানকে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদানির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে রিটের পর ব্যারিস্টার আবদুল কাইয়ূম সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ ভারতের অন্যান্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ অনেক কম টাকায় পায়। ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে যে বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়, দর প্রতি ইউনিট হিসেবে ৫ দশমিক ৫ টাকা পড়ে। ভারতের অন্যান্য বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশ যে বিদ্যুৎ নেয়, তার খরচ ইউনিট প্রতি ৮ টাকা ৫০ পয়সা করে পড়ে। অথচ আদানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিতে ১৪ টাকার ওপরে ইউনিট প্রতি খরচ পড়ে। এমনকি নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আনতে মোট খরচ পড়ছে ইউনিট প্রতি মাত্র আট টাকা। আদানির সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে দর-কষাকষি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়নি বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। তাই অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টে রিটটি করেছি।

বিষয়:হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…