পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল বিপর্যস্ত। বন্যায় সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে ফেনীতে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব জেলাগুলোতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেহাই পাচ্ছে না প্রাণীকুলও।
মানুষ ও মানবেতর প্রাণীদের এই ক্রান্তিকালে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অর্থ ও খাবার আনুষাঙ্গিক নিয়ে বন্যাদূর্গত এলাকাগুলোর দিকে ছুটছেন। বাদ যাচ্ছে না শিশু পর্যন্ত। শিশুরাও তাদের জমানো অর্থ বন্যার্তদের দান করছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক তার থালা থেকে বন্যার্তদের জন্য ১০ টাকা দিচ্ছেন। এমন ঘটনায় প্রশংসায় ভাসছেন প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক।
বন্যায় দেশের ১১ জেলার ৭৭ উপজেলা ও ৫৮৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত দুই নারীসহ ১৩ জন মারা গেছেন। কুমিল্লায় চারজন, ফেনীতে একজন, চট্টগ্রামে দুজন, নোয়াখালীতে একজন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একজন, লক্ষ্মীপুরে একজন এবং কক্সবাজারে তিনজন মারা গেছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৪৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩৫ জন।
এ পর্যন্ত তিন হাজার ১৬০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে এক লাখ ৮৮ হাজার ৭৩৯ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
১১ জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য মোট ৬৩৭টি মেডিকেল টিম চালু রয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নগদ তিন কোটি ৫২ লাখ টাকা, ২০ হাজার ১৫০ টন চাল ও ১৫ হাজার খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।









