যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার নতুন ফি কাঠামো আজ রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি নতুন আবেদনপত্রের জন্য এককালীন ১ লাখ ডলার ফি গুনতে হবে আবেদনকারীদের। তবে যারা আগে থেকেই বৈধ এইচ-১বি ভিসাধারী, তাদের জন্য এই ফি প্রযোজ্য হবে না।
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, এটা কোনো বার্ষিক ফি নয়। এটি এককালীন, কেবল নতুন ভিসা আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য।
তিনি আরও বলেন, যারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করছেন এবং আগে থেকেই এইচ-১বি ভিসা হাতে পেয়েছেন, তাদের পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় এ ফি দিতে হবে না।
এর আগে শুক্রবার মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেছিলেন, ফিটি বার্ষিক ভিত্তিতে দিতে হবে, যদিও পরে তিনি বিষয়টি বিবেচনাধীন বলে উল্লেখ করেন।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই ফি আরোপের উদ্দেশ্য হলো মার্কিন কর্মীদের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা। তাদের ভাষায়, নিম্ন মজুরির বিদেশি শ্রমিকরা মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে ফেলছে।
নতুন ফি সংক্রান্ত ঘোষণা আসার পরপরই মাইক্রোসফট, জে.পি. মরগান, অ্যামাজনসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে।
এসব কোম্পানির পাঠানো অভ্যন্তরীণ ই–মেইলে কর্মীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ভ্রমণে সাবধানতা অবলম্বন করতে।
গোল্ডম্যান স্যাকস-এর এক অভ্যন্তরীণ নোটে বলা হয়েছে, এইচ-১বি ভিসাধারীরা যেন এখন আন্তর্জাতিক যাত্রা পরিকল্পনায় সতর্ক হন।
তবে হোয়াইট হাউস আশ্বস্ত করে বলেছে, বর্তমানে বৈধ এইচ-১বি ভিসাধারীরা পূর্বের মতোই যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করতে পারবেন।
ভারতের আইটি খাতের শীর্ষ সংগঠন ন্যাসকম এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত ভারতীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ পেশাজীবী পাঠানোয় এই বাধা তাদের বৈশ্বিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যদিও ১ লাখ ডলার ফি এখন বাধ্যতামূলক, তবুও জাতীয় স্বার্থে কিছু আবেদন ফি ছাড় পেতে পারে। নতুন নির্দেশনায় শ্রম ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে ভিসা আবেদন যাচাই, নিয়ম বাস্তবায়ন ও নজরদারির যৌথ প্রক্রিয়া গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক সরকারি নোট অনুযায়ী, ২০০৩ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসাধারী আইটি কর্মীদের সংখ্যা ছিল ৩২ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ শতাংশে। এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সরকার উচ্চ মজুরি ও উচ্চ দক্ষতার ভিত্তিতে কর্মী নির্বাচন প্রক্রিয়া জোরদার করার উদ্যোগ নিচ্ছে।







