স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে চায় সরকার: মাহ্দী আমিন

দেশের স্থপতিদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা, উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে স্থাপত্য শিক্ষার মান উন্নয়ন, আধুনিক ও বাস্তবমুখী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
আন্তর্জাতিক স্থাপত্য শিক্ষা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করছেন। এসব তরুণের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং বিদেশে উচ্চতর মাস্টার্স ও পিএইচডি করার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে তাঁরা যেন দেশে বসেই আন্তর্জাতিক মানের স্থাপত্য প্রকল্পে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশও গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থপতিদের মেধা ও দক্ষতার কোনো অভাব নেই। মূল চ্যালেঞ্জ হলো তাঁদের ডিগ্রির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার উপযুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি), বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘ক্যানবেরা অ্যাকর্ড’-এর মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ বাংলাদেশের স্থাপত্য শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। এর মাধ্যমে দেশের স্থাপত্যের ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেলে শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত কাজের সুযোগ বাড়বে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম আধুনিক ও বাস্তবমুখী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত বই, সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, উন্নত স্টুডিও, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং দক্ষ শিক্ষক নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যোগাযোগও পর্যালোচনা করা দরকার।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য শিক্ষার জন্য বাজেট বাড়ানোর মতো উদ্যোগ নিতে সরকার প্রস্তুত। স্থাপত্য শিক্ষার মান উন্নয়নে যেসব সহযোগিতা প্রয়োজন তা দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
স্থাপত্যের সঙ্গে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সম্পর্ক তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, স্থাপত্য শুধু ভবন নির্মাণের বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ জড়িয়ে আছে। তাই আধুনিকতা ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো বিশ্বখ্যাত শহরগুলো তাদের দৃষ্টিনন্দন ও আইকনিক স্থাপনার জন্য পরিচিত। বাংলাদেশের স্থপতিদেরও ঢাকা ও দেশের অন্যান্য শহরে এমন স্থাপনা নির্মাণের সক্ষমতা রয়েছে, যা দেশের পরিচিতি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে।
মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় সাত হাজার স্থাপত্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী রয়েছেন। তাদের মেধা ও দক্ষতাকে কাজে লাগাতে আধুনিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে তরুণ স্থপতিরা দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রকল্পেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী পাঁচ বছরে দেশের স্থাপত্য ও অবকাঠামো খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য রয়েছে। এ উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থপতিদের সৃজনশীলতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায় সরকার।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেবে এবং বেসরকারি খাতের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করবে। দেশের স্থপতিরা যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফলতা অর্জন করতে পারেন এবং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন, সে জন্য আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।






