একের পর এক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের স্বত্ব বেসরকারি খাতে বিক্রির পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর ক্ষমা চেয়েছেন এমন কিছু করতে চাওয়ায়। তবুও তার উপর ক্রমশ চাপ বাড়িয়ে চলেছে উয়েফা। বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি জারি রেখেছে। এবার ইউরোপীয় ফুটবল লিগগুলোও ফিফা সভাপতির উপর চাপ বাড়াচ্ছে। মূলত লিগগুলোর কথা, একতরফাভাবে ফিফার যেকোনো সিদ্ধান্ত বিঘ্ন সৃষ্টি করে লিগের কার্যক্রমে।
ইনফান্তিনো মরক্কোর রাবাতে ফিফার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। সেই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা এবং সিরি আ’র মতো শীর্ষ ইউরোপীয় লিগগুলো ফিফার বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাবকে বিপজ্জনক বলেছে। সংস্থাগুলো বলছে, এটি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে গভীরতর উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফিফার শাসনব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর কিছু প্রশ্নও তুলেছে তারা।
বিবৃতিতে ইউরোপীয় লিগগুলো বিশ্বকাপকে ৬৪ দলে সম্প্রসারিত করার সম্ভাবনার তীব্র সমালোচনা করেছে। বলেছে, ‘ফিফাকে একতরফাভাবে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী সিদ্ধান্ত নেয়া চালিয়ে যেতে দেয়া উচিত নয়। ফিফার এমন প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন, যা নিশ্চিত করবে যে আমাদের খেলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী সিদ্ধান্তগুলোতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের আনুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকবে। সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত ফিফা প্রতিযোগিতার সম্প্রসারণ বা নতুন কিছু সৃষ্টি প্রত্যাখ্যান করা হবে।’
এরমাঝেই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন, ইনফান্তিনো সভাপতিত্বের জন্য সমর্থন চাইতে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের প্রস্তাব মরক্কোকে দিয়েছেন। ২০৩০ আসরের প্রধান সহ-আয়োজক স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কো। মরক্কো কাসাব্লাঙ্কার কাছে পরিকল্পিত ১,১৫,০০০ আসন বিশিষ্ট কিং হাসান-২ স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজন করার আশা করছে। যেখানে স্পেনের অন্তত দুটি দাবিদার রয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যু এবং বার্সেলোনার ন্যু ক্যাম্প।
যদিও ফিফা অস্বীকার করে বলেছে, ‘ফিফা সভাপতি ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের বিষয়ে কোন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এই দাবি অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর। ফিফা যথাসময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
ঘটনার সূত্রপাত ফিফা সভাপতির পরিকল্পনা প্রকাশ হয়ে পড়ার পর। প্রতিবেদনে আসে, বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি আলাদা বাণিজ্যিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। নতুন প্রতিষ্ঠানে বহিরাগত বা তৃতীয় পক্ষের শেয়ার কেনার সুযোগ থাকবে। ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানের পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর ফিফার সঙ্গে উয়েফা ও কনক্যাকাফের দূরত্ব তৈরি হয়। উয়েফা জানায় পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াবে ইউরোপের দেশগুলো।







