নৃ-জনগোষ্ঠি গারোদের নবান্ন উৎসব ‘ওয়ানগালা’কে সামনে রেখে শেরপুরে ঝিনাইগাতীর মরিয়মনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গারোদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎসব। নানা ধরনের পিঠা, প্রাকৃতিক ও ভেষজ উপাদান সমৃদ্ধ খাবারের উপকরণ, চু পানীয় এবং রান্নাকরা খাবারসহ অর্ধশতাধিক ঐতিহ্যবাহী খাবারের আইটেম স্থান পেয়েছিল উৎসবের বিভিন্ন স্টলে স্টলে।
জেলায় প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন বেশ সাড়া ফেলেছে গারো সম্প্রদায়ের মাঝে। এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে নিজেদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে যেমন সচেতন করবে, তেমনি নিজেদের শেকড় সন্ধানেও ভূমিকা রাখবে।
জানা যায়, শেরপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলার মরিয়মনগর সাধু জর্জের ধর্মপল্লীর আয়োজনে ১৯৮৫ সাল থেকে নভেম্বর মাসে ওয়ানগালা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারই প্রথম ওয়ানগালা উৎসবকে ঘিরে আগের দিন আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী গারোদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎসবের। ২৩ নভেম্বর শনিবার মরিয়মনগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ খাদ্য উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের চ্যান্সেলর ফাদার বাইওনেল চাম্বুগং।
গারোদের ঐহিত্যবাহী এ খাদ্য উৎসব আয়োজনে সহভাগী হয়েছে বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।
গারোদের এমন অনেক ঐতিহ্যবাহী খাবার এ উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে, যা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের অনেকেই অবগত নয়। উৎসবে আগতরা ঐতিহ্যবাহী এসব খাবারের স্বাদ গ্রহণ ছাড়াও বাড়ির লোকদের জন্য কিনে নিয়েছেন। কেবল গারোরাই নয়, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠির লোকজনও এ খাদ্য উৎসবে এসেছেন এবং গারোদের ঐতিহ্যবাহী খাবার সম্পর্কে জেনেছেন।
ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোর বেশীরভাগই মশলাপাতি ব্যবহার ছাড়া রান্নাবান্না হওয়ায় এটা অনেক সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে উল্লেখ করেছেন গারো জনগোষ্ঠির লোকজন।
নতুন প্রজন্মের গারো তরুণ-তরুনীরাও ঐতিহ্যবাহী নানা ধরনের খাবার একসাথে পেয়ে দারুণ খুশী। প্রতিবছর তারা এমন উৎসব আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন।
উৎসব আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব রনু নকরেক শাহ মোকাদ্দিম হোসেন বলেন, এ ধরনের আয়োজন গারোদের কৃষ্টি ও ঐহিত্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে ঐতিহ্যবাহী খাবার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের উৎসব আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
গারোদের ঐতিহ্যবাহী এ খাদ্য উৎসবে ২০টি স্টল স্থাপন করা হয়, যার মধ্যে ১৬টিতে রান্না ও তৈরি করা খাবার এবং খাবার তৈরির নানা ধরনের উপাদান ও উপকরণ বিক্রি করা হয়। আর ৪টি স্টলে গারোদের এতিহ্যবাহী বিভিন্ন ধরনের পোষাক বিক্রয় করা হয়। ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎসব উপলক্ষে খাবার প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিক্রি ও রান্নার প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন বয়সীদের জন্য নাচ-গান ও নানা ধরনের আনন্দময় খেলাধুলা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।








