গোপালগঞ্জের চাঞ্চল্যকর শ্রমীক নেতা বাসু হত্যা মামলায় আমৃত্যূ সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী ও যুবলীগ নেতা আলিমুজ্জামান বিটুকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এরআগে গত (২৮ জানুয়ারী) এ মামলার ৫ আসামীকে মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে আমৃত্যু কারাদন্ড ও ১১ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডসহ প্রত্যেক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
গত (২৮ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট আদালত সুত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
এদিক, মামলার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ জানান, ২০১৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পেশাগত কাজ শেষে গোপালগঞ্জের কুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় মৌলভীপাড়া এলাকায় সাইদুর রহমান বাসুর ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলাকারীরা তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তার উপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরিবারের লোকজন স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাসুকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর-পঙ্গু হাসপাতালে) ভর্তির একদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
১৯ ফেব্রুয়ারি নিহত বাসুর ছোট ভাই জাসু শেখ বাদি হয়ে এ মামলায় আমৃত্যু দন্ডপ্রাপ্ত আসামী আলিমুজ্জামানসহ দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের নামে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরের বছর (১৭) সালে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
দীঘ শুনানি ও ২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চলতি বছরের (২৮) জানুয়ারী এ মামলার ৫ আসামীকে মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও ১১ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডসহ প্রত্যেক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- বুলবুল শেখ, হেদায়েত শেখ, তফসির শেখ, ঝন্টু শেখ ও কিবরিয়া ।
আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি হলো- মিন্টু শেখ, কেনাই মোল্লা, আলীমুজ্জামান বিটু ও প্রিন্স খান। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ইকবাল খাঁ, টুটুল শেখ, রনি শেখ, আকরাম আলী, হাবিল কাজী, বুলগান কাজী, সজিব শেখ, পনির শেখ, সিহাব শেখ, রাশেদ শেখ ওরফে রাশেদ খাঁ এবং শওকত শেখ।
রায় ঘোষণার সময় এ মামলার অন্যতম আসামী আলিমুজ্জামান বিটুসহ কয়েকজন পলাতক ছিলেন।








