চাঁদপুরের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জমি বিক্রি করতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেন। জমি কেনার আগ্রহ দেখিয়ে তাকে উত্তরার অফিসে ডাকে সংঘবদ্ধ রয়েল চিটিং ডিপার্টমেন্ট(আরসিডি)। সেখানে গিয়ে জমির ক্রয়-বিক্রয়ের কথাবার্তার মধ্যেই আসে দামি রোলেক্স ঘড়ির ব্যবসার বিষয়। ভারতীয় পার্টনারের সঙ্গে ঘড়ির ব্যবসায় লগ্নি করার কথা বলে একজন ৩০ লাখ টাকার বান্ডিল দিয়ে চলে যান। সাইফুলকেও ঘড়ি ব্যবসার পার্টনার হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। জমি বিক্রির পাশাপাশি ঘড়ির ব্যবসায় লাভের প্রলোভনে পড়েন সাইফুল।
তার সাথে যাওয়া ভায়রা আব্দুল মান্নানের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সরল বিশ্বাসে তারা পরদিন ২০ লাখ টাকা নিয়ে উত্তরার ওই অফিসে গিয়ে দিয়ে আসেন। সেসময় তাদের খুব আপ্যায়নও করা হয়। কিন্তু এরপর দিনই জমি রেজিস্ট্রেশন হওয়ার কথা থাকলেও সেদিন থেকে চক্রের সবার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর উত্তরার ওই অফিসে গিয়ে চক্রের এক সদস্যকে পেয়ে তাকে আটক করে থানা পুলিশের খবর দেন তারা।
ওই ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ওই মামলার তদন্ত ভার পায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)।
তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআই চক্রের দুই সদস্যকে শনিবার(১৬ সেপ্টেম্বর) উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, বহুমাত্রিক ব্যবসার লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে ও প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। চক্রের মূলহোতা আব্দুল বারী ওরফে আফসার উদ্দিন খাঁন ওরফে বজলুর রহমান মাসুদ (৬৬)। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
রোববার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁও পিবিআই ঢাকা মেট্রো-উত্তর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। মামলার তদন্তভার পাওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে মামলার অজ্ঞাতনামা আসামী রাশেদ ওরফে রাসেল(৩৭), মো. নাঈমকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চক্রের মূলহোতার আসল নাম আব্দুল বারী। তবে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম ব্যবহার করে থাকেন। তার তিনটি আইডি কার্ড রয়েছে বলেও জানান তিনি। তার বিরুদ্ধে মোট ৬টি প্রতারণার মামলার তথ্য মিলেছে। তিনি গত মাসেও আদালত থেকে জামিনে বেড়িয়ে একই প্রতারণা জড়িয়েছেন। তিনি অফিস পরিবর্তন করে আবারো উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অফিস নেন। প্রতারণার ফাঁদ পেতে আবারো একজনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে আফসার জানান, তিনি বিমানবন্দর থানার মামলায় বিজ্ঞ আদালত থেকে জামিনে আছেন। তবে তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় আরেকটি মামলা রয়েছে যেটিতে তিনি পলাতক। সেটিও পিবিআই তদন্ত করছিল। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পিবিআই’র এ কর্মকর্তা বলেন, এই রয়েল চিটিং ডিপার্টমেন্ট (আরসিডি) নামক প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতার আসল নাম আব্দুল বারী তিনি পরিচয় দিতেন বড় ব্যবসায়ী। কখনো ফার্নিচার, কখনো ক্যামিকেল ব্যবসায়ী, কখনো ঘড়ির। আগে মালয়েশিয়াতে থাকতেন বারী। সেখান থেকে আসার পর মূলতঃ ২০১৩ সাল থেকে প্রতারণায় নামেন তিনি। সুনির্দিষ্ট সদস্য নেই এ
চক্রের। যখন যেখানে যাকে প্রয়োজন তাকে টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করেন তারা। এখন পর্যন্ত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। চক্রের আরেক হোতা মাসুদ পলাতক রয়েছে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।








