নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের দাফন সম্পন্ন হয়েছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নিজ গ্রামে।
আজ (১৬ মে) শনিবার সকালে জানাজা শেষে স্বামী মো. কামালের কবরের পাশেই দাফন করা হয় তার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে। একসঙ্গে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতরা হলেন- বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের চান্দে আলীর ছেলে মো. কামাল (৪৫), তার স্ত্রী সায়মা বেগম (৩৫), দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৪) এবং একমাত্র ছেলে মুন্না (৭)।
প্রায় ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন কামাল। জীবিকার তাগিদে তিনি ভ্রাম্যমাণভাবে সবজি বিক্রি করতেন। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত অর্থে গ্রামের বাড়িতে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কোরবানির ঈদে পরিবার নিয়ে সেই নতুন ঘরে ওঠার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হলো পুরো পরিবারকে।
গত ১০ মে ফতুল্লার উত্তর ভুঁইগড় গিরিধারা এলাকার ৬ নম্বর সড়কে শাহজাহান মিয়ার মালিকানাধীন একটি ৯ তলা ভবনের নিচতলার ভাড়া বাসায় গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কামাল, তার স্ত্রী ও তিন সন্তান গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যান মো. কামাল। পরে একে একে মারা যায় তার তিন সন্তান এবং সর্বশেষ শুক্রবার সকালে মারা যান স্ত্রী সায়মা বেগম।
শনিবার সকাল থেকে নিহতদের বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জানাজায় অংশ নিতে আশপাশের এলাকা থেকেও শত শত মানুষ উপস্থিত হন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি পাঁচজনকে দাফন করা হয়।







