দীর্ঘ তিন মাস ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে আবারও মৎস্য আহরণ শুরু হয়েছে। সোমবার মধ্যরাত থেকে মাছ শিকার, সরবরাহ ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর হ্রদে ফিরেছেন জেলেরা।
আজ (১১ আগস্ট) মঙ্গলবার সকাল থেকে রাঙ্গামাটির চারটি মৎস্য অবতরণ ঘাটে মাছ আসতে শুরু করেছে। মাছ আহরণ শুরু হওয়ায় জেলার বরফকলগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে বিএফডিসির অবতরণ ঘাটসহ মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, পোনা মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং হ্রদের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ২৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ করে দেয় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন। নির্ধারিত তিন মাস ১৫ দিন পর সোমবার মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
রাঙ্গামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শুক্কুর বলেন, দীর্ঘ সময় পর মাছ ধরা শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দ ফিরে এসেছে। প্রথম দিকে ধরা পড়া মাছের আকার কিছুটা ছোট হলেও কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে। মাছের আকার বড় হলে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন বলে আশা করেন তিনি।
রাঙ্গামাটি বিএফডিসির ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দিনেই বিএফডিসির অবতরণ ঘাটে প্রচুর মাছ এসেছে। বর্তমানে মাছের আকার কিছুটা ছোট হলেও আগামী কয়েক দিনে বড় মাছ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। এর সুফলে আগামী দিনে হ্রদে মাছের উৎপাদন অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কাপ্তাই হ্রদের মৎস্যসম্পদের ওপর রাঙ্গামাটির অর্থনীতি ও বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রেখে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি এবং পরে নির্ধারিত নিয়মে আহরণ উন্মুক্ত করার মাধ্যমে এ সম্পদ টেকসইভাবে ব্যবস্থাপনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘ বিরতির পর মাছ ধরা শুরু হওয়ায় রাঙ্গামাটির চারটি মৎস্য অবতরণ ঘাটে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। একই সঙ্গে জেলে, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আশাবাদ।








