এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্বগ্রহণের পরে এটি তার প্রথম বাজেট এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও এটি প্রথম বাজেট।
‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে প্রণীত এ বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা সহজীকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে বাজেটের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এটি প্রথম বাজেট পেশ। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে নতুন অর্থনৈতিক নীতির সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজেট পেশের পর এটিকে সরকারের অর্থনৈতিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কর্মসংস্থানমুখী করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান। এ ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের পাশাপাশি ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ লাখ নাগরিককে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনতে ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। এ খাতে প্রথমবারের মতো আটটি নতুন কর্মসূচি যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য ভাতা, কর্মহীন শ্রমিকদের সুরক্ষা কর্মসূচি এবং অন্যান্য সহায়তামূলক উদ্যোগ।
সরকার আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। কৃষক কার্ডধারীরা বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা পাবেন।
কর ব্যবস্থায় সংস্কারের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রগতিশীল করকাঠামোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তা ও সৃজনশীল খাতকে উৎসাহ দিতে কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এসএমই, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য কর সুবিধা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন শুল্ক ও কর রেয়াতের প্রস্তাবও রয়েছে।
এ ছাড়া ইলেকট্রিক যানবাহন, পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি, কনজ্যুমার ইলেকট্রনিকস, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিখাতের জন্য একাধিক কর-সুবিধা ও প্রণোদনার ঘোষণা দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।
বাজেট বক্তৃতা চলছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বাজেটে স্বাক্ষর করেন। পরে দুপুরের আগে ব্রিফকেস হাতে নিয়ে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী। ওই ব্রিফকেসেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বহন করা হয়।

