বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের অন্যতম জ্যেষ্ঠকর্মী ও সংগঠক, প্রখ্যাত স্থপতি ও ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি লাইলুন নাহার স্বেমি আর নেই। বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে দুইটায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশ এক বিবৃতি জানায়, দীর্ঘদিন কিডনি রোগে ভুগছিলেন স্বেমি। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। বৃহস্পতিবার বাদ যোহর গুলশানের আজাদ মসজিদে তাঁর জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জয়দেবপুরে পারিবারিক কবরস্থানে পিতামাতার পাশে সমাহিত হবেন।
১৯৫৪ সালের ১৪ এপ্রিলে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন লাইলুন নাহার স্বেমি। ছাত্রজীবনেই তিনি এ দেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনে যুক্ত হন। তিনি ১৯৬৯ সালে মুহম্মদ খসরুর সম্পাদনায় প্রকাশিত চলচ্চিত্র পত্রিকা ‘ধ্রুপদী’র সহ-সম্পাদনায় জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ‘চলচ্চিত্রপত্র’ সহ অন্যান্য চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রকাশনায় লেখক, সম্পাদক হিসেবে অবদান রেখেছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদের অন্যতম জ্যেষ্ঠ কর্মী ও সংগঠক হিসেবে তিনি বাংলাদেশে গুণগত চলচ্চিত্র সংস্কৃতির বিকাশে গত পাঁচ দশক সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। ২০১৪ সালে তিনি ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি নির্বাচিত হন। মৃত্যুকাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করে গেছেন।
ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটি এক বিবৃতি জানায়, স্বেমি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের অন্যতম অভিভাবক হিসেবে দেশের চলচ্চিত্রের স্বাধীন পরিসর গড়ে তোলার জন্য লড়াই করেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র নীতিমালা তৈরি, চলচ্চিত্র সেন্সর ব্যবস্থা বাতিল করে সার্টিফিকেশন আইন প্রণয়ন, জাতীয় চলচ্চিত্র কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ও বলিষ্ঠ সংগ্রাম করেছেন। স্থপতি লাইলুন নাহার স্বেমির আকস্মিক প্রয়াণে দেশের চলচ্চিত্র সংস্কৃতি একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ও সৎ অভিভাবক হারিয়েছে।







