বিশ্বকাপে সাফল্য ও শৈল্পিক ফুটবলের ঝলকে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিয়েছে লাতিন দুই দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। পেলে, ম্যারাডোনা, রোনাল্ডো, মেসি, নেইমার ফুটবলের এই রাজকুমারদের খেলার পাশপাশি দুদলের জার্সি আর পতাকা নিয়ে আছে আলোচনা-উন্মাদনা।
জাতীয় পতাকার দুই রঙ সাদা আর নীল দিয়ে রাঙানো জার্সি পরে ব্রাজিল ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ সালে বিশ্বকাপে মাঠে নেমেছে। ১৯৫০ সালে নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হেরে সেলেসাওদের দুঃখ-কান্নার উপাখ্যান ইতিহাস হয়ে আছে মারাকানা ট্র্যাজেডি বা মারাকানাজো নামে।
স্বপ্নের মারাকানা স্টেডিয়ামে প্রায় দেড় লাখ ব্রাজিলীয় ভক্ত চোখের জলে প্রিয় দলের হারই দেখেননি, হারের পেছনে দায়ী করেছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ গোলকিপার বারবোসাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রাজিল ফুটবল দলের জন্য নতুন এক জার্সির ডিজাইন আহ্বান করে ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস কনফেডারেশন। তাদের চাওয়া ছিল- জার্সিতে জাতীয় পতাকার মতো ফুটে উঠবে আমাজন বনের সবুজ, দেশের অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতীক হলুদ, আকাশের নীলের মাঝে তারা হয়ে ফুটবে ব্রাজিলের ২৬ প্রদেশ ও এক ফেডারেল সরকারের প্রতিচ্ছবি।
জমা পড়া তিনশো ডিজাইন থেকে নির্বাচিত হয় ১৯ বর্ষী ডিজাইনার আলদিয়া গার্সিয়া স্কিলির করা ক্যানারিনহো বা বিখ্যাত হলুদ-সবুজ জার্সি। ১৯৫৩ সালে চিলির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে প্রথম এই জার্সি পরে এক গোলে জেতে ব্রাজিল। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে এই জার্সি পরে ব্রাজিল একে একে পাঁচবার জিতেছে স্বপ্নের ট্রফি। ২০১৯ সালে মৃত্যুর আগে ক্যানারিনহোর স্রষ্টা স্কিলি দেখে গেছেন সাম্বার রাজাদের পেন্টা জয়।
ব্রাজিলের প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিশ্বখ্যাত আলবিসেলেস্তে জার্সিতে রয়েছে জাতীয় পতাকার আকাশী-নীল আর সাদার কম্বিনেশন। তবে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে এক চমকপ্রদ ঘটনায় যোগ হয় বিকল্প গাঢ় নীল জার্সি রেট্রো। সেবার মেক্সিকোর অসহনীয় গরমে ফুটবলারদের স্বস্তি দিতে কোচ কার্লোস বিলার্দোর চাহিদা অনুযায়ী বিকল্প জর্সি সময়মতো সরবরাহ করা হয়নি। ইংল্যান্ডের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে শেষমুহুর্তে কোচিং স্টাফরা স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করে ৩৭টি গাঢ় নীল জার্সি। সেই জার্সিতে ফুটবল সম্রাট ম্যারাডোনার বিখ্যাত দুই গোল। ফাইনালে অবশ্য আকাশী-নীল জার্সি পরেই ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় ছিল। তাদের অ্যাওয়ে জার্সি হিসেবে আজও রয়ে গেছে গাঢ় নীলের সেই হাফস্লিভ রেট্রো।








