শেষ ৩২ দলের নকআউট লড়াইয়ে রাত ১১টায় মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বকাপ ফুটবল জয়ী ব্রাজিল ও এশিয়ার ব্রাজিল খ্যাত জাপান। কিন্তু নকআউট পর্বের শুরুতেই এমন লড়াই এদেশের ব্রাজিল সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল না। তাই অনেকের মন খারাপ। আবার অনেকে আছেন ভীষণরকম দোটানায়। কেউ কেউ আক্ষেপ করে বলছেন, ব্রাজিলের সাথে জাপানের খেলা না হলেই ভালো হতো।
নকআউট পর্বের ৩২-এ উঠতে না পেরে এশিয়ার ফুটবল শক্তি কাতার, সাউথ কোরিয়া, সৌদি আরব, ইরাক, ইরান সবাই বিদায় নিয়ে চলে গেছে। শুধু রয়ে গেছে এক জাপান। জাপানের প্রতি এদেশের ফুটবলমোদীদের দরদ, ভালোলাগা এসবের কোন ঘাটতি নেই। জাপান হেরে যাক- এমন কথা তাই মুখ ফুটে কেউ বলতেও চাইবে না। আবার ব্রাজিল প্রেম- সেওতো এক মহা কুহক।
কেমন হবে জাপান-ব্রাজিল ম্যাচ? ব্রাজিল সহজেই জিতবে? নাকি জাপান দুঃসাধ্য নতুন কোন কীর্তির জন্ম দেবে। এরকম অনেক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবল অনুরাগী আর মিছেই ঝগড়াঝাটি যারা করে তাদের কাছে। তবে জাপানের খেলা যারা নিয়মিত দেখেন তারা জানেন এদের খেলায় ধারের কোন ঘাটতি নেই। সেই ঘাটতি আজও থাকবে না। অফুরন্ত দম নিয়ে খেলতে ভালোবাসে জাপান। জাপানের ঠাণ্ডা মাথার কোচ হাজিমো মোরিয়াসু বলেছেন, ‘আমাদের বিশ্বাস আমরা জিততে পারি এবং সেই সুযোগ আমাদের রয়েছে। কিন্তু মানুষ আমাদের ‘ডার্ক হর্স’ বলছে। আমরা সেই মানসিকতা নিয়েই খেলবো।’
‘জাপানের আত্মবিশ্বাস আকাশে বাতাসে ঘুরছে।’ ঠিক এমন মন্তব্য করে আজকের এই ম্যাচ নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বলেছেন সাবেক তারকা ফুটবলার আলমগীর। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন অনেকদিন। আলমগীরের সেই লম্বা থ্রো এখনও ট্রেডমার্ক। তবে সাবেক ফুটবলার আলমগীর আজ জাপানকেই বেশি প্রেমবন্ধনে রেখেছেন। বরাবরই ফুটবলের অপরূপ সৌন্দর্যকে তিনি বেশি ভালোবাসেন। এ কারণেই তিনি বরাবরই প্রত্যাশা করেন ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা সামনের দিকে উঠে আসুক। বিশ্বকাপের লড়াইটা জমে উঠুক। তবে আজকের জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যেকার লড়াইয়ে তিনি জাপানের সমর্থক। মনেপ্রাণে চাইছেন জাপান ব্রাজিলকে পরাজিত করে নিজেদের ফুটবল সামর্থ্যকে আরও প্রমাণ করুক। আজ জাপান বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়ে ফেললে অবাক কিছুই থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।
আলমগীর বললেন, ‘এশিয়ার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ফুটবল দল জাপান। দারুণ লড়াকু। ম্যাচে তারা কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলে না। এ টু জেড তারা সম্মিলিতভাবে খেলে। ফলে আজকেও জাপান সেভাবেই খেলবে। ব্রাজিলকে একবিন্দু ছাড় দিবে না।’
আলমগীর আরও বললেন, ‘জাপানের খেলায় একুরেসি এখন অনেক হাই। ওদের পাসিং ভালো। সবচেয়ে বড় কথা হল আক্রমণটা করে সম্মিলিতভাবে। গত বিশ্বকাপের কথা সবার মনে আছে। জাপান কিন্তু গ্রুপ স্টেজে ২-১ গোলের ব্যবধানে স্পেনকে পরাজিত করেছিল। জাপান দলটা এরকমই। কখন যে কী করে ফেলে কেউ বুঝতে পারবেন না।’
জাপান দল নিয়ে আলমগীর অনেক অনেক আশাবাদী। ‘৯৩ সালে জাপানের মাটিতে জাপানের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের লড়াইয়ে বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। সে ম্যাচে জাপান বাংলাদেশকে ৮-০ গোলে পরাজিত করেছিল। সেসময় বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন কাজী সালাহউদ্দিন। আলমগীর সেই স্মৃতি মনে করে বললেন, ‘তখন বুঝেছিলাম জাপান বিশ্বফুটবলের আঙিনায় অনেকদূরে এগিয়ে যাবে। সেটাই দেখলাম। ধাপে ধাপে এই দলটির উত্থান। আজ জাপান জয়ী হোক মনেপ্রাণে কামনা করি।’
ব্রাজিল প্রসঙ্গে আলমগীর বললেন, এই দলটি নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলা অন্যায়। ব্রাজিল তো ব্রাজিলই। রূপে-গুণে শ্রেষ্ঠ। ব্রাজিল মানেই ফুটবলের অন্যরকম আলোড়ন। সেই আলোড়ন আনন্দ আরও প্রস্ফুটিত হোক সবাই কামনা করে। তবে আজকেও সবাই তাকিয়ে থাকবে নেইমারের দিকে। নেইমার মাঠে থাকলে দৃশ্যপট বদলে যাবে। তীব্র আক্রমণে ব্রাজিল প্রথমেই গোল চাইবে। আবার জাপানের ডিফেন্সও সজাগ সতর্ক থাকবে।
আলমগীর বললেন, এখন পর্যন্ত প্রমাণ হয়েছে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড লাইনে ভিনি উত্তাল উন্মাদ। আজও সেইরকম থাকবে।
ব্রাজিল জাপানের ডিফেন্স ভেঙে ফেলতে যা যা করার সে করবে। তবে আমি এও মনে করি জাপানের কোচ এসবকিছু প্রতিরোধের সবধরনের হোমওয়ার্ক করে রেখেছেন। নিঃসন্দেহে আজ জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার ম্যাচটি এক অনবদ্য লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে। ম্যাচটি শেষপর্যন্ত পেনাল্টি শুট আউটের দিকও যেতে পারে। জাপানের কোচ বলেছেন- সেরকম হলে কে কে পেনাল্টি কিক নেবেন সেটাও ঠিক করা আছে।
সবশেষে সাবেক ফুটবলার আলমগীর আবার বললেন, ‘আজ জাপান জয়ী হোক। এশিয়ার আকাশে এক নতুন সূর্য উঠুক। নিশীথ সূর্যের দেশে এক পরম আনন্দ নেমে আসুক। জাপান আজ ফুটবলের নতুন কাব্য লিখুক।’

