বিশ্বকাপে সেরা ষোলোয় আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে রেফারির কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক লেগে আছে। ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে শেষ ২০ মিনিটে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে সেদিন জিতেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জয়ের পর মিশরের দিক থেকে রেফারিংয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়, ম্যাচ পাতানো ছিল বলে দলটি। সেটি নিয়ে বক্তব্য এলো ফিফার দিক থেকে। অভিভাবক সংস্থার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা ব্যাখ্যা করেছেন বিষয়গুলো।
ইতালীয় সাবেক এ রেফারি বলেছেন, ‘শুরুতেই বলে রাখি, আমরা কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি ম্যাচ খেলেছি এবং এখনও আরও ৮টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলা বাকি আছে। কিছু জিনিস প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়াটা স্বাভাবিক।’
পিয়েরলুইজি কলিনা বলেছেন রেফারির উপর কোনকিছুর দায় দেয়া যাবে না। এমনকি খোদ ফিফা সভাপতিও সেটা করতে পারবেন না। বলেছেন, ‘এমনকি, কেউই দাবি করতে পারেন না যে ফিফা রেফারিং কারো দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে, এমনকি ফিফা সভাপতি দ্বারাও নয়। ম্যাচ কর্মকর্তারা সৎ সিদ্ধান্ত নেন এবং খেলোয়াড়-কোচের মতোই তারা সবসময় নিজেদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেন।’
‘অবশ্যই, সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলের একটি অংশ, কিন্তু ভিত্তিহীন অভিযোগের আমাদের এই খেলায় কোন স্থান নেই। বিশ্বকাপের ম্যাচে কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন না। এসব ঘটনায় এমন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে, যা রেফারি এবং তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে হুমকির দিকে নিয়ে যায়।’
গোলের পর আক্রমণ করা দলের উপর ভিএআর আলাদা নজর রাখে এবং দেখে সেখানে কোন ফাউল ছিল কিনা। পিয়েরলুইজি কলিনা বলেছেন, ‘প্রতিটি গোল হওয়ার পর, ভিএআর আক্রমণভাগের বল দখলের পর্যায় পরীক্ষা করে। যদি গোল হওয়ার আগে কোন ফাউল চিহ্নিত করা হয় এবং মনে করা হয় যে এটি গোলের উপর প্রভাব ফেলেছে, তবে ভিএআর মাঠেই পর্যালোচনার জন্য সুপারিশ করে। গোল থেকে দূরত্ব অথবা ঘটনা এবং গোলের মধ্যবর্তী সময়ের কোন নির্দিষ্ট সীমা নেই।’
আর্জেন্টিনা-মিশরের ম্যাচ দিয়ে তিনি উদাহরণ টানেন, ‘যেমন আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচে, মিশরের মারওয়ান আতেয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পায়ে পরিষ্কারভাবে বুটচাপা দেন। আমরা বিশ্বাস করি যে, ফাউল মানে ফাউল। ফাউলটি স্পষ্ট মনে হলেও, রেফারি যদি খেলার মাঠে তা দেখতে না পান, তবে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে। একইভাবে, কোন গোলের আগে যদি কোন ফাউল চিহ্নিত না হয়, সেটাও ভিএআর রেফারিকে পরামর্শ দেবে।’
‘আবার একজন ডিফেন্ডার যদি প্রথমে বল স্পর্শ করার পর স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শে আসেন, তবে তিনি ফাউল করেননি। যেমন, রেফারি এবং ভিএআর মিশরের মোহাম্মেদ সালাহ এবং আর্জেন্টিনার জুলিয়ান আলভারেজের মধ্যকার সংস্পর্শটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হিসেবে গণ্য করেছেন। অবশ্যই কিছু সিদ্ধান্তে সবসময়ই ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির একটা প্রভাব থাকবে, কিন্তু আসরজুড়ে ভিএআর নীতিটি যেভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’







