ফুটবল মহাযজ্ঞ শুরু হতে বাকি আর ২৯ দিন। নর্থ আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার আয়োজনে ১১ জুন পর্দা উঠছে বিশ্বআসরের। অন্যতম আয়োজক মেক্সিকো গড়ছে সর্বাধিক তিনবার বিশ্বকাপ আয়োজনের অনন্য কৃতিত্ব। মেক্সিকো ও সাউথ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে ১৯৭০ ও ১৯৮৬’র ফাইনালের ভেন্যু ‘স্তাদিও আজতেকা’য় এবারের আসর গড়াবে। বিশ্বকাপ ঘিরে মেক্সিকোর মতো এমন অনেক অদ্বিতীয় রেকর্ড রয়েছে।
আয়োজক, অংশগ্রহণকারী দেশ, ম্যাচ, ভেন্যু এমনকি বাছাইপর্বের ম্যাচের সংখ্যা, সময়কাল, সবকিছু মিলিয়ে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরটি ইতিহাসে অদ্বিতীয় এবং অবশ্যই চমক জাগানো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দল ছিল ৩২টি, এবার বেড়ে হয়েছে ৪৮। সেবার ম্যাচসংখ্যা ছিল ৬৪, এবারের ত্রি-আয়োজকের পাল্লায় বেড়ে যা হয়েছে ১০৪টি।
২০২২-এ কাতারের দোহা শহরেই ৭ স্টেডিয়ামে পসরা বসেছিল বিশ্বকাপের। এবার তিন দেশের ১৬টি শহর সুবাসিত হবে বিশ্বকাপের সৌরভে। চার বছর আগের বিশ্বকাপ আসরের স্থায়িত্ব ছিল ২৯ দিন, এবার বেড়েছে আরও ১০ দিন।
বাছাইপর্বেও ২৩তম আসরটি ছিল বিশাল ক্যানভাসের। ২০২২’এ একমাত্র আয়োজক ছিল কাতার। সেবার ৩২ দলের মধ্যে ইউরোপ থেকে ১৩, এশিয়ার ৫, আফ্রিকার ৫, কনক্যাকাফ ও কনমেবল অঞ্চল থেকে ৪টি করে দেশ অংশ নিয়েছিল।

এবার ৪৮ দলের মধ্যে তিন আয়োজক সরাসরি খেলছে চুড়ান্ত পর্বে। ইউরোপ থেকে ১৬, এশিয়া থেকে ৮, আফ্রিকা থেকে ৯টি ছাড়াও কনমেবল ও কনক্যাকাফ থেকে ৪টি দল এসেছে।
বাংলাদেশসহ ফিফার ২০৬টি সদস্য দেশ ২০২৩’র সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬’র মার্চ পর্যন্ত মোট ৮৯৯টি ম্যাচ খেলে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। এবার প্রথম বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার আগেই হয়েছে চূড়ান্ত গ্রুপ বিন্যাস।
গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের এবারের আসরের জন্য ফিফা ও তিন আয়োজক করছে বিস্তর খরচ। টার্ন ওভার, লভ্যাংশ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপ্তিও বড় মাপের। গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে দর্শকদের গুণতে হবে হাজার হাজার ডলার। টিভি সত্ত্ব বিক্রি হয়েছে রেকর্ড অর্থে।

জাঁকজমক আয়োজনে ফুটবলশৈলী কতটা মনকাড়া হয়, সেদিকে তাকিয়ে থাকবে গোটা দুনিয়া।








