সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে দুর্বল করতে ‘সমন্বিত এক প্রচেষ্টা’ চলছে— এমন অভিযোগ ফিফার। ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক নানা অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যে শনিবার রাতে প্রকাশিত বিবৃতিতে অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সংস্থাটি বলেছে, সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে ফিফা ও সভাপতিকে নিয়ে ‘ভিত্তিহীন দাবি’ এবং ‘প্রমাণিত মিথ্যা তথ্য’ প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে হলে ফিফার গঠনতন্ত্র ও প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফিফার সভাপতি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন। এটা ক্রমে স্পষ্ট হচ্ছে যে, কিছু পক্ষ ফিফা ও সভাপতিকে দুর্বল করার জন্য সমন্বিত এক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’
‘যাদের ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সমর্থন নেই, তারা অভিযোগ, ইঙ্গিত কিংবা ভুল তথ্যের মাধ্যমে এমনকিছু অর্জনের চেষ্টা করতে পারেন না, যা ফিফার প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভব নয়।’
২০২৭ সালে ফিফা সভাপতি পদে আবারও নির্বাচিত হতে প্রার্থী হয়েছেন ইনফান্তিনো। তার নেতৃত্বের বিরোধিতায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
বিরোধের অন্যতম বড় বিষয় ছিল বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক আয় ব্যবস্থাপনার জন্য ফিফার নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) গঠনের পরিকল্পনা। যার মাধ্যমে বিশ্বকাপের মালিকানা বেসরকারি খাতে দেয়ার প্রচেষ্টা ছিল। এটি নিয়ে উয়েফার পাশাপাশি কনক্যাকাফ ও এএফসি আপত্তি জানায়। শেষপর্যন্ত পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা। ক্ষমা চান ইনফান্তিনো।
তবে এটি নিয়ে বিরোধের পরও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফার আপত্তি থামেনি। ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়ে রেখেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
এরমধ্যেই ইনফান্তিনোর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন অভিযোগ সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে খবর, উয়েফার জেনারেল সেক্রেটারি থাকাকালে ইনফান্তিনোর সঙ্গে এক নারীর প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে উয়েফা থেকে ওই নারী চলে যাওয়ার সময় তাকে মোটা অঙ্কের অর্থ দেয়া হয়েছিল। যে অর্থ ইনফান্তিনো দিয়েছিলেন উফেয়ার তহবিল থেকে।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত এসব খবর ও অভিযোগের প্রেক্ষাপটে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফিফা। সংস্থাটি বলেছে, ‘ফিফা সভাপতি নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন কোন প্রক্রিয়াকে আমরা সমর্থন, সহযোগিতা বা সহায়তা করব না, যা ফিফার গঠনতন্ত্র, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সংস্থার প্রতিষ্ঠিত পরিচালন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
অভিযোগগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ফিফা। বলেছে, ‘অনুমান ও ইঙ্গিতকে তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। কোন অভিযোগ বারবার বলা হলেই সেটি সত্য হয়ে যায় না।’
‘সমালোচনার সুযোগ নিয়ে তথ্য বিকৃত করা, ভিত্তিহীন অভিযোগকে বড় করে তোলা কিংবা অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা যাবে না। কোন প্রতিবেদন ভুল বা বিভ্রান্তিকর হলে ফিফা তার সরাসরি ও কঠোর প্রতিবাদ করবে।’
নেতৃত্বের প্রশ্নে অবশ্য ইনফান্তিনো পুরোপুরি একা হয়ে পড়েননি। লাতিন আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবল জানিয়েছে, দ্রুত কোন প্রক্রিয়ায় ইনফান্তিনোকে সরানোর উদ্যোগে তারা সমর্থন দেবে না। আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনও (সিএএফ) সভাপতির প্রতি ‘সর্বসম্মত সমর্থন’ জারি রেখেছে।








