সমর্থকদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে আরও রক্তপাতের দিকে এগিয়ে গিয়ে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। সমর্থক এবং কর্মীদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়ে জান্তা সরকার এখন দেশটির অস্ত্র আইন সংশোধন করে এর প্রতিকারের চেষ্টা করছে।
থাইল্যান্ড পরিচালিত মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতি জানিয়েছে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা একটি নতুন নীতি জান্তা সমর্থকদের নিজেদের সুরক্ষার জন্য অস্ত্র রাখার বৈধতা দেবে। দেশটির সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইতিমধ্যেই মিয়ানমারের অনেক অংশকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। এই অবস্থায় নতুন করে সাধারণ জনগণকে অস্ত্র রাখার বৈধতা দেওয়াটা, আরও রক্তপাতের লক্ষণ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
নতুন এই নীতির অধীনে, বেসামরিক নাগরিকদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করা হবে। যাতে তারা নিজেদের রাজ্য এবং অঞ্চলগুলোতে স্থানীয় নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগে অংশ নিতে পারে। ১৮ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের এই লাইসেন্স দেওয়া হবে এতে তারা ৫ ধরণের অস্ত্র রাখাতে পারবে। এই নীতি শুধুমাত্র ইউএসডিপি সদস্য, সামরিক সমর্থক, প্রাক্তন সামরিক কর্মী, প্রশাসক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য প্রযোজ্য। অন্য কথায়, নতুন নীতি জান্তা সমর্থকদেরই জান্তার পক্ষে লড়াই করার অনুমতি দেবে।
২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে বিদ্রোহীদের হাতে মিয়ানমারে ৫ হাজারেরও বেশি সামরিক জান্তা কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিহত হয়েছেন এবং আরও ৪ হাজার জন আহত হয়েছেন বলে গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে জানান জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং। প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতে পালিয়ে যাচ্ছেন বহু সামরিক সদস্য। এই অবস্থায় নিজেদের শক্তি বাড়াতেই নতুন অস্ত্রনীতি প্রণয়ন করছে জান্তা সরকার।








