রমজানের বাইরে নফল ইবাদতের মধ্যে অন্যতম হলো সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা। এটি ফরজ নয়, তবে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত এই দুই দিনে রোজা রাখতেন। হাদিসে এসেছে, এ দুই দিনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মুসলিমদের আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ইসলামে মানুষের প্রতিটি কাজের হিসাব সংরক্ষিত হয়। হাদিস অনুযায়ী, সপ্তাহের প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে উপস্থাপন করা হয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) চাইতেন তাঁর আমল যেন রোজা অবস্থায় আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলসমূহ আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। তাই আমি ভালোবাসি, আমার আমল যেন রোজা অবস্থায় পেশ করা হয়। (জামে তিরমিজি)
সোমবার কেন আরও বিশেষ?
সোমবার দিনটি ইসলামের ইতিহাসেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এ দিনেই আমার জন্ম হয়েছে এবং এ দিনেই আমার ওপর ওহি নাজিল হয়েছে।
অর্থাৎ, সোমবার কেবল একটি দিনের নাম নয়; এটি নবীজির (সা.) জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন। এ কারণেও তিনি সোমবার রোজা রাখতেন।
বৃহস্পতিবারের তাৎপর্য
বৃহস্পতিবারের আলাদা কোনো ঐতিহাসিক ঘটনা না থাকলেও এই দিনেও মানুষের আমল আল্লাহর কাছে পেশ করা হয়। তাই অনেক মুসলিম এই দিনে নফল রোজা রেখে ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।
এই রোজার শিক্ষা কী?
সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা একজন মুসলিমকে নিয়মিত আত্মসমালোচনা, আত্মসংযম এবং আল্লাহর স্মরণে অভ্যস্ত করে তোলে। সপ্তাহে দুই দিন নফল রোজা রাখার মাধ্যমে শুধু সুন্নতের অনুসরণই হয় না, বরং নিজের আমলকে আরও সুন্দর করার অনুপ্রেরণাও তৈরি হয়।
মনে রাখবেন
সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোজা সুন্নত ও নফল ইবাদত। এটি পালন করলে সওয়াবের আশা করা যায়, তবে কোনো কারণে রাখতে না পারলে গুনাহ হয় না। তাই সামর্থ্য ও সুযোগ অনুযায়ী এই সুন্দর আমলকে জীবনের অংশ করে নেওয়া যেতে পারে।







