ফুটবলের বিদ্রোহী তকমা পাওয়া ইউরোপিয়ান সুপার লিগে যোগদানের জন্য ক্লাবগুলোকে নিষিদ্ধ করা বেআইনি ছিল, রায় দিয়েছেন আদালত। রায়টি উয়েফা এবং ফিফার খেলা পরিচালনায় কর্তৃত্বের জন্য একটি বিশাল ধাক্কা হয়ে এসেছে। রায়ে বলা হয়েছে, উয়েফা এবং ফিফা প্রভাবশালী সংস্থা হিসেবে তাদের অবস্থানের অপব্যবহার করেছে।
বৃহস্পতিবার ইউরোপের সর্বোচ্চ আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন। এতে উয়েফা ও ফিফার গভর্নিং বডিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। আদালত এটিও বলেছেন, এর মানে এই নয় যে সুপার লিগ প্রকল্পের মতো প্রতিযোগিতাকে অবশ্যই অনুমোদন দিতে হবে।
ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস (ইসিজে) গত ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলেছিলেন, ফুটবলের ইউরোপীয় এবং বিশ্ব পরিচালনা সংস্থাগুলোর নিয়মগুলো ইইউ প্রতিযোগিতা আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যখন নতুন প্রতিযোগিতা সম্ভাব্যভাবে বাজারে প্রবেশ করছে, তখন ফিফা এবং উয়েফাকে অবশ্যই তাদের ক্ষমতা স্বচ্ছ, উদ্দেশ্যমূলক, বৈষম্যহীন এবং আনুপাতিকহারে নিশ্চিত করতে হবে।
ফিফা এবং উয়েফার ক্ষমতাগুলো এই জাতীয় কোনো মানদণ্ডের অধীন নয়। তাই ফিফা এবং উয়েফা প্রভাবশালী অবস্থানের অপব্যবহার করছে।
এছাড়া তাদের স্বেচ্ছাচারী প্রকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে, তাদের অনুমোদন, নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞার নিয়মগুলোকে অবশ্যই সেবা প্রদানের স্বাধীনতার উপর অযৌক্তিক সীমাবদ্ধতা হিসেবে ধরতে হবে।
তার মানে এই নয় যে, সুপার লিগ প্রকল্পের মতো একটি প্রতিযোগিতা অবশ্যই অনুমোদিত হতে হবে। আদালত রায়ে সেই নির্দিষ্ট প্রকল্পের উপর কিছু আরোপ করেন না।
সুপার লিগ নিয়ে ২০২১ সালের এপ্রিলে শুরু হয়েছিল আলোচনা। তখন খবর ছড়িয়েছিল- ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্সেনাল, চেলসি, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং টটেনহ্যামসহ ১২টি দল সুপার লিগে যোগ দেবে। ঘটনায় অন্যান্য ইউরোপীয় লিগ, এমনকি সরকারের দিক থেকে ব্যাপক ক্ষোভ এবং নিন্দা জানানো হয়। ফলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সুপার লিগের পরিকল্পনা ভেঙে যায়।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোসহ অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান এবং এসি মিলানকে উয়েফা জরিমানা করেছিল। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা এবং জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ স্থগিত করা হয়েছিল। জুভেন্টাস জুলাই মাসে প্রকল্পটি থেকে বেরিয়ে আসার ইঙ্গিত দেয়। যদিও ইউরোপিয়ান সুপার লিগ চালুর সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল হয়নি। রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে আগ্রহী।







