সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাংলাদেশের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ আরও জোরদার করতে ঢাকা-আবুধাবি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করেছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। উদ্বোধনী ফ্লাইটের সব আসন আগেই বিক্রি হয়ে যায়, যা দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও কার্গো পরিবহনের উচ্চ চাহিদারই প্রতিফলন।
সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে আবুধাবি থেকে বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজে পরিচালিত ফ্লাইট ইঅয়াই৩৮২ স্থানীয় সময় রাত ১০টায় যাত্রা শুরু করে। পরদিন ভোরে এটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
নতুন এই রুটে সপ্তাহে চার দিন বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজ চলাচল করবে। এতে ২৮টি সম্পূর্ণ শোয়া যায় এমন বিজনেস ক্লাস আসন এবং ৩৭৪টি ইকোনমি ক্লাস আসনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্গো বহনের সুবিধা থাকবে।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আন্তোনোয়ালদো নেভেস বলেন, উদ্বোধনী ফ্লাইটের সব আসন বিক্রি হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কেরই প্রমাণ। তিনি জানান, যাত্রী ও কার্গো উভয় ক্ষেত্রেই এই রুটে চাহিদা বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে ইউএইতে বসবাসরত বৃহৎ বাংলাদেশি প্রবাসী জনগোষ্ঠী এবং আবুধাবিকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় অঞ্চল (জিসিসি), উত্তর আমেরিকা ও যুক্তরাজ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি নতুন এই ওয়াইডবডি উড়োজাহাজ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের রপ্তানিতেও সহায়ক হবে বলে আশা করছে ইতিহাদ।
এয়ারলাইনটির মতে, নতুন কার্গো সক্ষমতার মাধ্যমে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে আরও নির্ভরযোগ্য পরিবহন সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে আবুধাবি দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক গন্তব্যগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট হাবে পরিণত হবে।
আবুধাবি হয়ে ভ্রমণকারী যাত্রীরা ইতিহাদের স্টপওভার কর্মসূচির সুবিধাও নিতে পারবেন। এর মাধ্যমে সংযোগ ফ্লাইটের অপেক্ষার সময় তারা আবুধাবির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন।
এর মধ্যে রয়েছে শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদ, লুভর আবুধাবি, জায়েদ ন্যাশনাল মিউজিয়াম, সমুদ্রসৈকত, বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ওয়াটারফ্রন্ট পর্যটন এলাকা।
ঢাকাকে নতুন গন্তব্য হিসেবে যুক্ত করার মাধ্যমে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করল। এর ফলে এই অঞ্চলের যাত্রী, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিল্পখাতের সঙ্গে আবুধাবির মাধ্যমে বৈশ্বিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।







