সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’তে বাংলাদেশকে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, চুক্তিতে বাংলাদেশকে যুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই সূত্র পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, সৌদি আরব ইতোমধ্যে ঢাকাকে চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে কখন এই আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সূত্রটি কিছু জানায়নি।
এর আগে সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বাংলাদেশকে ‘মক্কা চুক্তি’তে যুক্ত করার সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি হলে সেখানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশের নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসে সৌদি আরবের মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান তিনটিই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। চুক্তিটি ভবিষ্যতে আরও দেশের জন্য উন্মুক্ত হতে পারে বলে তুরস্ক জানিয়েছে।
বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যোগ দিলে তা দেশের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। বিশেষ করে চুক্তিতে পাকিস্তানের অংশগ্রহণের কারণে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ ভারতের পাশাপাশি চীন, ইরান, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কৌশলগত হিসাব-নিকাশ তৈরি করতে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মক্কা চুক্তির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান সরাসরি না জানিয়ে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা একটি নিরাপত্তা জোটে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার বিষয়টি নয়াদিল্লি স্বাভাবিকভাবে ইতিবাচকভাবে নাও দেখতে পারে।









