রবিবার (১ ডিসেম্বর) লন্ডনের ওয়েস্ট এন্ডের ডোমিনিয়ন থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘দ্য ডেভিল ওয়ার্স প্রাডা: দ্য মিউজিক্যাল প্রিমিয়ার’। যেই অনুষ্ঠানে একটি আবেগঘন বক্তৃতা দেওয়ার সময় নিজের অন্ধত্ব নিয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন ‘স্যাক্রিফাইস’ খ্যাত ব্রিটেনের গায়ক এলটন জন।
এদিন শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে জন বলেন, ‘আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন অনেকদিন ধরে আমার চোখে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং তার জন্য আমি আমার দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছি। আমি আমার নিজের পারফর্মেন্স দেখতে পারিনি ঠিকই কিন্তু উপভোগ করেছি।’
জন আরও বলেন, ‘আমার সঙ্গী ডেভিড ফার্নিশ আমার পাশে সব সময় ছিলেন। সব সময় আমাকে মানসিকভাবে সাহায্য করেছেন তিনি। একটি গুরুতর সংক্রমণের ফলে আমার চোখের দৃষ্টি এখন একেবারেই শেষ হয়ে গেছে। আমি কিছুই পড়তে পারছি না, কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।’
জন জানিয়েছেন, ‘দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনেক ধৈর্য এবং সময় লাগবে আবার আগের জায়গায় ফিরে যেতে। তবে নিজের দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে যে ভীষণ আশাবাদী তাও জানিয়েছেন জন।’
জনের এই দৃঢ় মনোভাবের প্রশংসা করেছেন ভক্তরা। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরেও যেভাবে নিজের শিল্প সত্তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন জন, তা দেখে রীতিমতো মুগ্ধ ভক্তরা।
পিয়ানো প্রেমি এই শিল্পীর শৈশব থেকেই মিউজিকের প্রতি বেশি আগ্রহ ছিল। এ কারণে তার পরিবার তাকে ভর্তি করেন রয়্যাল একাডেমি অফ মিউজিক প্রতিষ্ঠানে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে একটি ব্যান্ড দল গঠন করেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
অল্প সময়ের মধ্যে পেয়ে যান পপ তারকার খ্যাতিও। তার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্যাক্রিফাইস, কোল্ড হার্ট, আই ওয়ান্ট লাভ, আইস অন ফায়ার, ডোন্ট গো ব্রেকিং মাই হার্ট, ইওর সং, স্লিপিং উইথ দ্য পাস্ট ইত্যাদি। ক্যারিয়ারে তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৫ সালে এলটন পান অস্কার পুরস্কার। ৬ বার গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড, ১২ বার আইভর নোভেলো অ্যাওয়ার্ড এবং একবার টনি অ্যাওয়ার্ডের মতো সম্মানজনক পুরস্কারও রয়েছে তার অর্জনের ঝুলিতে।- হিন্দুস্থান টাইমস








