এবারের ঈদুল ফিতরে সিনেপ্লেক্স, মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে ১৭১ সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ঈদের হাফ ডজন ছবি! এগুলো হলো— বরবাদ, জংলি, দাগি, চক্কর ৩০২, জ্বিন ৩ এবং অন্তরাত্মা।
মুক্তির নবম দিনে দেশের একাধিক সিনেমা হলে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেল, সারাদেশে একচেটিয়া রাজত্ব করছে সুপারস্টার শাকিব খানের ছবি ‘বরবাদ’। মুক্তির আগে ছবিটি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে থাকায় এর দাপটে অন্য পাঁচটি ছবি সিঙ্গেল স্ক্রিনগুলো তেমন পায়নি!
তবে ‘বরবাদ’-এর পাশাপাশি সিনেপ্লেক্স ও মাল্টিপ্লেক্সে দাগি, জংলি এবং চক্কর ৩০২— এই তিনটি ছবির মধ্যে জমজমাট লড়াই চলছে। সিনেপ্লেক্সে কম শো পাওয়া ‘জ্বিন ৩’ দেখে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন দর্শক। অন্যদিকে, ‘অন্তরাত্মা’ মুক্তির দুদিন পরেই সিনেপ্লেক্স থেকে নেমে গেছে!
গত কয়েকদিন সিনেপ্লেক্স ও ব্লকবাস্টার ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি শো নিয়ে চলছে ‘বরবাদ’। দর্শকরা এই ছবি দেখে কেউ মন্দ বলছেন না। বরং এতো ভালো বাংলা ছবি আগে দেখেননি বলেও মন্তব্য করছেন। অনেকে টিকেট না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন, শো বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন।
স্টার সিনেপ্লেক্সের জৈষ্ঠ্য বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, গত জুলাইয়ের পর থেকে দর্শক খরা ছিল। শঙ্কা ছিল দর্শক ঈদে সিনেমা দেখবে কিনা! ঈদ থেকে আবার দর্শক হলমুখী হয়েছে। সবগুলো বাংলা ছবিই দেখছে দর্শক, তবে চাহিদার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ‘বরবাদ’ দেখছে দর্শক। এরপর দাগি, জংলি, চক্কর ৩০২ দেখছে। ঈদের প্রথমদিন থেকে আজ পর্যন্ত দর্শকদের উপস্থিতি ভালো পাচ্ছি। আমরা হ্যাপি। ভালো বাংলা সিনেমা এলে দর্শক যে দেখে সেটা এবার ঈদে আবারও প্রমাণিত হলো।
মঙ্গলবার ‘বরবাদ’ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন জানিয়েছে, সাত দিনে এ ছবি ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার টিকেট বিক্রি করেছে। মুক্তির নবম দিনেও দেখা যায়, সিনেপ্লেক্সে বরবাদের ৩৬টি শো চলছে, যা সবগুলোই অগ্রিম টিকেটে হাউজফুল। যারা সরাসরি কাউন্টারে যাচ্ছেন, তারা বরবাদের টিকেট পাচ্ছেন না বলে জানাচ্ছেন।
পাশাপাশি মুক্তির পর থেকে দৈনিক দেশের বিভিন্ন সিঙ্গেল স্ক্রিনে মিড নাইট শো চলছে। একইসঙ্গে ঢাকার মধুমিতা সিনেমা হলে প্রতিদিনই দর্শক চাপে টিকেটের জন্য হাহাকার দেখা যাচ্ছে, এমনকি ব্ল্যাকেও টিকেট বিক্রি হচ্ছে।
ইফতেখার নওশাদ বলেন, ‘বরবাদ’ এখানে খুব ভালো যাচ্ছে। দৈনিক চার শো, প্রতিদিন হাউজফুল দিচ্ছে, প্রত্যাশার বাইরে সেল হচ্ছে। দুদিন আগে দর্শকদের এতো চাপ ছিল, উত্তেজিত হয়ে হলের গ্ল্যাস ভেঙেছে। দৈনিক নাইট শো, ইভিনিং শো-তে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকছে। শাকিবের আগের ছবি ‘তুফান’ ছাড়িয়ে যাবে। শো চলাকালীন শাকিব স্ক্রিনে এলেই দর্শক চিল্লাচিল্লি শুরু করছে। মধুমিতায় একটানা ‘বরবাদ’ চলবে।
সুড়ঙ্গের পর আফরান নিশো অভিনীত ‘দাগি’ সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টার, লায়ন এই মাল্টিপ্লেক্স কেন্দ্রিক মুক্তি দেয়া হয়েছে। মাত্র ১৪টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে এ ছবি। ঈদে মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ‘দাগি’। জানা যায়, মুক্তির নবম দিনেও ছবিটির ২৭টি শো চলছে সিনেপ্লেক্সে। অগ্রিম টিকেটেও চাহিদা রয়েছে দাগি’র।
সিয়াম অভিনীত ‘জংলি’ ছবিটি সিনেপ্লেক্স, মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিন মিলিয়ে ১০টি প্রেক্ষাগৃহে মক্তি পেয়েছে। মুক্তির সময় সিনেপ্লেক্সে ৬টি শো পেলেও দর্শক চাহিদায় নবম দিনে এর শো সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪টি। দর্শক এ ছবি দেখে প্রশংসা করছেন। ধারণা করা যাচ্ছে, আগামীর ‘জংলি’র দর্শক আরও বাড়বে।
তুলনামূলক কম শো পেলেও মোশাররফ করিম অভিনীত থ্রিলার গল্পে ‘চক্কর ৩০২’ দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন দর্শক। নির্মাতা শরাফ আহমেদ জীবন তার প্রথম ছবিতেেই বেশ সুনাম কুড়াচ্ছেন। তার কথা, আমার ছবি দেখে দর্শক ভালো বলছেন। দর্শকদের এই গুড রিভিউ ছবিটিকে এগিয়ে নেবে।
ব্লকবাস্টারের সহকারী মার্কেটিং ম্যানেজার মাহাবুবুর রহমান বলেন, এখানে দর্শক চাহিদায় শীর্ষে ‘বরবাদ’। এরপর ‘দাগি’ ভালো যাচ্ছে। ‘জংলি’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ রয়েছে। এ কারণে শো বাড়ানো হয়েছে। ‘চক্কর ৩০২’ এভারেজ যাচ্ছে। ‘জ্বিন ৩’র ডিসিপি দিতে দেরি করায় ব্লকবাস্টারে চালানো সম্ভব হয়নি। সবমিলিয়ে চারটি ছবি দর্শক ভালো দেখছে। অন্যান্য ঈদে এমনটা হয়নি। আশা করছি, আরও একমাস এভাবে চলবে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্তরা সিনেমা হলের মালিক আহমেদ মুসা শিশির বলেন, মুক্তির প্রথমদিন থেকে অবিশ্বাস্য রেসপন্স পাচ্ছি। প্রিয়তমা, তুফান দিয়ে ব্যবসা হয়েছিল তারচেয়ে বেশি ‘বরবাদ’ থেকে ব্যবসা হচ্ছে। দর্শকদের চাপে ঈদের দ্বিতীয় দিনে মিড নাইট শো চালিয়েছি।
চট্টগ্রামের সুগন্ধায় সিনেমা হলটির ব্যবস্থাপক শাহাদত হোসেন বলেন, আটমাস আমাদের ব্যবসা মন্দা ছিল। ‘বরবাদ’ চালিয়ে সেই লস পুষিয়ে তুলছি। গত নয় দিনে যতগুলো শো চলছে, ৮৫ পারসেন্ট শো হাউজফুল। এর আগে হাওয়া, পরাণ, তুফান এভাবে সাকসেস পেয়েছিল সুগন্ধায়।
সৈয়দপুরের (নীলফারামী) তামান্না সিনেমা হলে ২৫ বছরের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করছে বরবাদ। হলটির মালিক মাহবুব আলী ঝন্টু বলেন, তুফানের চেয়ে বেশি সেল দিচ্ছে বরবাদ। এমন সিনেমা বেশি নির্মিত হলে মানুষ তামিল ছবি দেখা বাদ দিয়ে বাংলা সিনেমা দেখবে।








