দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন মুহাম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৪৩৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ২২৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯ লাখ টাকা।
এদিন অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগার আধুনিকায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ২০০০ হর্স পাওয়ার রিগ ক্রয়, শাহবাজপুর ও ভোলা এলাকায় কূপ খনন এবং নেসকো এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ (তৃতীয় সংশোধিত), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপকূলীয় এলাকায় বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়), বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের শেখ হাসিনা স্পেশালাইজড জুট টেক্সটাইল মিল ও যমুনা স্পেশালাইজড জুট অ্যান্ড টেক্সটাইল মিল, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তিন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প (ফেজ-২), নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন, এবং মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী ও স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়ন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ (প্রথম সংশোধিত) এবং গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও জানান, ফসলের উৎপাদন ব্যয় জরিপ–২০২৫, সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপন, পার্বত্য চট্টগ্রামে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের যন্ত্রপাতি আধুনিকীকরণ, দেশের বীমা খাত উন্নয়ন, পিরোজপুরে নতুন সার্কিট হাউস নির্মাণ, রামু সেনানিবাসে পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট স্থাপন, সিলেট সেনানিবাসে অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ, উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা সেতুর কাছে পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও আলোচনায় আসে।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা ও গবেষণা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে গতি আসবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়ন সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে সরকার।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সালেহ উদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, শিল্প ও গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ ও পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।








