আজ থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬। আগামী ৭ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৭০টিরও বেশি দেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহটি পালিত হবে। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস একচেটিয়া মাতৃদুগ্ধ পান নিশ্চিত করা এবং এই বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেই প্রতিবছর এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজ (১ আগস্ট) শনিবার থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ শুরু হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশে ২০১০ সাল থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে।
জন্মের পর প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের দুধই একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ও আদর্শ খাদ্য। মাতৃদুগ্ধে শিশুর প্রয়োজনীয় সব ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাতৃদুগ্ধ শুধু শিশুর জন্যই নয়, মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। নিয়মিত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে মায়েদের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কান ও বুকের সংক্রমণ, অ্যালার্জি, একজিমা, অতিরিক্ত ওজন এবং পরবর্তী জীবনে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। এছাড়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্স–এর গবেষণা অনুযায়ী, মাতৃদুগ্ধ পান শিশুমৃত্যুর হার প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সহায়ক।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে আজ সকালে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারিতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।







