বহুদিন ধরে বহু ক্রোশ দূরে
বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে
দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা
দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু।
দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া,
ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া
একটি ধানের শীষের উপরে একটি শিশির বিন্দু।
মানুষ মাত্রই সৌন্দর্য পিপাসু। আবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে। এই সৌন্দর্য অবলোকন করতে প্রকৃতিপ্রেমী ভ্রমণবিলাসী মানুষ কতই ঘুরে বেড়াচ্ছে দেশ থেকে দেশান্তরে। বহির্বিশ্বের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অন্বেষণ করে বেড়াচ্ছে তারা। বিশ্বের অনেক কিছুই আমাদের অজানা, অদেখা যেখানে রয়েছে বিচিত্র প্রকৃতি, অগণিত কীর্তি, তবে এর সবকিছুর সঙ্গে পরিচিত হওয়া মানুষের সংক্ষিপ্ত জীবনে সম্ভব নয়।
উপরন্তু স্বাস্থ্য, সময় এবং অর্থেরও প্রয়োজন। অন্যদিকে আমাদের সাহিত্য ভাণ্ডারে লেখকদের যেসব ভ্রমণ কাহিনী আছে সেটাও বেশিরভাগ বাইরের দেশ নিয়ে।
যাই হোক আমাদের ১৪৭৬২০ বর্গকিলোমিটারের বাংলাদেশে কক্সবাজার, কুয়াকাটা ছাড়াও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে সমগ্র দেশজুড়ে। তেমনি এক সৌন্দর্য বিস্তার করে আছে নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর-কলমাকান্দায়।
দুর্গাপুরের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে আছে:
১.সোমেশ্বরী নদী
২.চীনা মাটির পাহাড়
৩.বিরিশিরি
৪.গারো পাহাড়
৫.রানীখংচার্চ
৬.ভান্দা ভ্যালি
৭.কালচারাল একাডেমি
৮.উট পাহাড়
নদী-পাহাড়-নীল পানি-সাদা মাটি-আদিবাসী সংস্কৃতি সব মিলিয়ে এক অসাধারণ সৌন্দর্যের লীলা ভূমি।
নিজ পিতৃভূমি দুর্গাপুরের এতো সৌন্দর্য তেমনভাবে দেখা হয়নি। ছোটবেলায় দুর্গাপুরের শালুয়াকান্দা গ্রামে দাদার বাড়ি গিয়েছি। ১৯৯০ সালে বাড়ি গেলাম, সেখান থেকে ছোটো চাচীআম্মার সাথে দুর্গাপুর গেলাম, ছোটো কাকুর দুর্গাপুরের বাসায়। সোমেশ্বরী নদী পার হলাম পায়ে হেঁটে। সময়টা ছিল শীতকাল তাই নদীতে পানি ছিল না। ধু ধু বালি আর বালি। কাজিনের নবজাতক নিয়ে বিরিশিরি মিশন হাসপাতালে গেলাম। দুইদিন পর আবার আমরা ফিরে এলাম। আমাদের বাড়ি দুর্গাপুর থেকে তিন/চার কিলো দূর হবে। আমরা হেঁটে বাড়ি গেলাম। যাওয়ার পথে একটা বিশাল পুকুরের গল্প শোনালেন চাচীআম্মা।
গল্পটা এমন: অনেক অনেক দিন আগের কথা। তখন এক রাজা ছিল। রাজার রাজ্যে সেই সময় পানির খুব অভাব ছিল। রাজা বিশাল এক পুকুর খনন করালেন। কিন্তু পুকুরে পানি উঠে না। প্রজারা পানির অভাবে হা হুতাশ করতে লাগল। এমন সময় রাজা স্বপ্নে দেখলেন রাজার রানী কমলা পুকুরে নেমে আরাধনা করলে বা পূজো দিলে পুকুরে পানি উঠবে। রাজা স্বপ্নের কথা রানীকে খুলে বললেন। কমলা রানী অধীর আগ্রহে পুকুরে নামলেন। তখন অতল গভীর থেকে পানি উঠতে লাগল। পুকুর পানিতে ভরে উঠল। প্রজাদের পানির সংকট মিটল কিন্তু কমলা রানী আর ভেসে উঠলেন না। সেই থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটির নাম লোক মুখে চলে আসছে কমলা রানীর দীঘি।
অপরদিকে নেত্রকোণার আরেক উপজেলা কলমাকান্দা। এখানেও প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ছড়িয়ে আছে। এই স্থানের সৌন্দর্যও সেভাবে দেখা হয়নি। এইবছর জানুয়ারিতে এক বিয়ে উপলক্ষে বারহাট্টা থেকে কলমাকান্দা গেলাম। চলার পথে যেটুকু দেখলাম তাতেই বোঝা গেল এই স্থানটিও সৌন্দর্যের আরেক লীলাভূমি। ভারতের বর্ডার সংলগ্ন পর্যটক কেন্দ্রগুলোতে আছে পর্যটকদের যাতায়াত।
ভ্রমণ মানুষের জানার পরিধি বাড়িয়ে দেয়। তাই তো জানার পরিধি বাড়াতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর আবশ্যক।








