দেশীয়ভাবে উৎপাদিত ইলেকট্রিক যানবাহন (ইভি) আগামী তিন মাসের মধ্যেই বাজারে আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (বেইল)।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ঢাকা অটো সিরিজ ২০২৬-এ প্রতিষ্ঠানটি তাদের বহুল প্রতীক্ষিত প্রোটোটাইপ উন্মোচন করেছে।
তিন দিনব্যাপী এই অটো প্রদর্শনীতে বেইল তাদের তিনটি ব্র্যান্ড—চার চাকার যাত্রী ও পণ্যবাহী যান এমইভি, মোটরবাইক ব্র্যান্ড গ্লাইডার এবং তিন চাকার যান অটোম্যাক্স—উন্মোচন করে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, খুব শিগগিরই প্রি-বুকিং শুরু হবে এবং তিন মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক বিক্রি চালু করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চট্টগ্রামের মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে একটি ইভি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে যানবাহনের প্ল্যাটফর্ম ও বডি তৈরি করে আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বেইলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবির বলেন, ‘গ্রাহকসেবা ও নির্ভরযোগ্যতাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত পণ্য দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি আরও জানান, দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ ইভি ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়।
কোম্পানির দাবি, তাদের তৈরি যানবাহনগুলো আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দেশের ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে আনা হবে। গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে প্রতিটি যানবাহনের সঙ্গে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি এবং বিক্রয়োত্তর সেবা দেওয়া হবে।
বিশেষভাবে গ্লাইডার ও অটোম্যাক্স ব্র্যান্ডের যানগুলোতে রিমুভেবল ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা চার্জিং সহজ করবে এবং ব্যবহারকারীর সময় বাঁচাবে।
প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, আগামী জুনে ঘোষিত জাতীয় বাজেটে ইভি খাতে নীতিগত সহায়তা পেলে উৎপাদন খরচ আরও কমবে এবং দেশীয় ইলেকট্রিক যানবাহন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।
উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় আয়োজিত ঢাকা অটো সিরিজ ২০২৬-এ ১০টির বেশি দেশের ৭০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে এবং প্রায় ২০০টি বুথে নতুন প্রযুক্তি ও যানবাহন প্রদর্শন করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনের চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ইভি খাতের এই অগ্রগতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।






