‘রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, ডাক্তারকে ডাকতে গেলেই মারলেন লাথি’ শিরোনামে প্রচারিত প্রতিবেদনের ূত্র ধরে সেই ডাক্তারকে তলব করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কমিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই ২০২৪ তারিখে সময় টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদনটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে আসে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রংপুরে রোগীর স্বজনের পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ওই চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
এ অবস্থায়, অভিযোগের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তপূর্বক কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রেরণ করতে জেলা প্রশাসক, রংপুর-কে বলা হলে গত ২০ আগস্ট প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
অভিযোগ ও প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার-২, রংপুর এর চিকিৎসক এবং তার সহকারী কর্তৃক ভুক্তভোগী নারীকে ধাক্কাদেয়া ও টানাহেচড়া করার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে সে চিকিৎসককে আগামী ১ অক্টোবর কমিশনের বেঞ্চ-২ এ সশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী জানান, ‘আমার চাচা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। ১৪ দিন আগে অসুস্থ চাচাকে নিয়ে ডাক্তার দেখাই। এসময় তিনি প্রেসক্রিপশন দিয়ে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে ভর্তি করাতে বলেন। দুই সপ্তাহ পরও চাচার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পপুলার-২ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিয়ে আসি। কিন্তু চাচার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়া সত্ত্বেও তিনি সিরিয়াল দিচ্ছিলেন না। একপর্যায়ে আমার চাচা নিঃশ্বাস নিতে পারছিলেন না। শেষে আমি ডাক্তারের রুমে গেলে উনি কোনো কিছু বলার আগেই আমার পেটে লাথি মারে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
নারীকে লাথি মারার ব্যাপারে জানতে চাইলে ডাক্তার বলেন, ওই নারী জোর করে চেম্বারে ঢোকার চেষ্টা করলে আমার সহকারি তাকে বাধা দেন। পরে জোর করে চেম্বারে প্রবেশ করে। এতে রেগে গিয়ে আমি তাকে ধাক্কা দেই। তার পেটে লাথি মারার কথা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবসেবার মহান ব্রত নিয়ে অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যেখানে সুস্থ করার কথা সেখানে চিকিৎসা সেবা চাওয়ায় একজন মূমুর্ষু রোগীর স্বজনের পেটে চিকিৎসক কর্তৃক লাথি মারার অভিযোগ কমিশনের বেঞ্চ গুরুত্ব সহকারে আমলে নেয়। এ ধরনের ঘটনা অমানবিক ও অনভিপ্রেত বলে কমিশন মনে করে।








