আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান ছেড়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি?

ইসরায়েলের হামলার পর তেহরান ছেড়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি?

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের আগাম প্রতিরোধমূলক হামলার জেরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তেহরান ছেড়েছেন কি না এ নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিবালোকে ইরানের রাজধানী তেহরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।

সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রাথমিক হামলাটি তেহরানে খামেনির কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় হয়েছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ওই এলাকায় বিস্ফোরণের কথা স্বীকার করেছে। তবে ৮৬ বছর বয়সী খামেনি তখন কার্যালয়ে ছিলেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর গত কয়েক দিন ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও অভিযানের বিষয়ে অবগত আরেক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিয়েছে।

কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বাসভবন এবং একটি গোয়েন্দা সদরদপ্তরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব দাবি নিশ্চিত করেনি।

ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহুরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। আল জাজিরার এক প্রতিবেদকও বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা থেকে বোঝা যায় হামলা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাতেও পৌঁছেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে একটি চুক্তি করতে চেয়েছিলেন। দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ চাপের মধ্যে ইরানকে দুর্বল অবস্থায় দেখেই তিনি সুযোগ দেখছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইরান যুদ্ধ এড়াতে চাইলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখার কথা বলেছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা সশস্ত্র গোষ্ঠী যেমন হামাস ও হিজবুল্লাহকে সমর্থনের বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতে অনাগ্রহী তেহরান।

তাৎক্ষণিকভাবে ইরান পাল্টা হামলা চালাবে কি না তা স্পষ্ট নয়। তবে আগে থেকেই সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রতিশোধ নিলে অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাসদস্যরা লক্ষ্যবস্তু হবে।

ইসরায়েল আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা শুরুর পর সারা দেশে তাৎক্ষণিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ শনিবার এ ঘোষণা দেন।

হামলা শুরুর সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নাগরিকদের বোমা আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

হোম ফ্রন্ট কমান্ডের বার্তায় বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে নাগরিকদের নিকটবর্তী সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। আইডিএফ জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রস্তুতি হিসেবে এ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশ বাধ্যতামূলক নয়।

বিষয়:ইরান ইরান যুদ্ধ ২০২৬ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…