বায়ুদূষণে বিশ্বের শহরগুলোর তালিকায় আজ প্রথম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং ঢাকার বাতাসও দিন দিন দূষিত হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই ঢাকার বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
আজ ১৫ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ৯টায় আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় ছিল। ২২১ স্কোর নিয়ে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছে। একই সময়ে পাকিস্তানের লাহোর শহর ১৮৬ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এবং ভারতের দিল্লি ১৮৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের স্কোর অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত ভালো, ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মাঝারি, ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে ধরা হয়, যা নগরবাসীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়ির ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বায়ুদূষণের মাত্রা নির্ধারণের জন্য পাঁচটি প্রধান দূষককে বিবেচনা করা হয়: বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)। বায়ুদূষণ সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর, বিশেষ করে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি, প্রবীণ এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর মতে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যানসার এবং শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের মতো রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মৃত্যুহার বাড়িয়ে দিচ্ছে।







