দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ব্যাংকগুলোতে চলমান তারল্য সংকট নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা ব্যাংক পিএলসি এবং বিএবি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে রুগ্ন ব্যাংকগুলোকে দাঁড় করাতে হলে ডিপোজিটরদের যে আস্থা আছে তা ফেরত আনতে হবে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, কোন ব্যাংকের প্রতি যদি আমানতকারীর আস্থা পরে যায় তবে তা ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বাক বদলের অধ্যায় ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান। অভ্যুত্থান পূর্ব সময়ে দীর্ঘ দিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে বিভিন্ন সেক্টরের মতো অর্থনৈতিক সেক্টরেও সৃষ্টি হয় অস্থিরতা এবং অনিশ্চয়তা। দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেই সংকট কাটাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন দেশের অর্থনৈতিক সেক্টরের দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বেশ কিছু অর্থনৈতক ব্যাক্তিত্ব। যাদের মধ্যে অন্যতম এবং নেতৃত্বপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ব্যাংকিং এবং অর্থনৈতিক সেক্টরের অগ্রপথিক ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকস এর চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।
তিনি একাধারে বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং প্রাচীনতম ব্যবসায়িক সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ চেম্বারস অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) পরিচালক ছিলেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনায় স্নাতোকত্তর এই ডায়নামিক ব্যবসায়িক নেতা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও রেখে চলেছেন বিশেষ অবদান। বাংলাদেশের স্বনামধণ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান তিনি।
সম্প্রতি দেশের বর্তমান অর্থনীতি, ব্যাংকিং সেক্টরের পরিস্থিতি, সংকট এবং সম্ভাবনা নিয়ে আব্দুল হাই সরকারের সাথে কথা বলেন রাজু আলীম। তার এই সাক্ষাতকারে উঠে আসে ব্যাংক সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা।
দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ব্যাংকগুলোতে চলমান তারল্য সংকট নিয়ে কথা বলেন দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের অন্যতম এই অগ্রপথিক। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে যে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে এমনটি নয়। অনেক ব্যাংক হয়তো এখনো খুঁড়িয়ে হাঁটছে। কিন্তু আমি মনে করি থিংস আর অন দি রাইট ট্র্যাক নাউ। আমরা বিএবি, ফিন্যান্স মিনিস্ট্রি প্লাস গভর্নর হেল্প করার চেষ্টা করছি। মোস্ট অফ দি মেম্বারস অফ বিএবি যতটুকু সমর্থন করা দরকার, ততটুকু আমরা করছি। আর সরকার তো কাজ করছেই। আমরা এ বিষয়ে নীতি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। একটা ব্যাংক খালি টাকা দিয়ে চলবে না। আমরা পিছিয়ে পরা ব্যাংকগুলোকে এমনভাবে সহায়তা দিয়ে থাকি যাতে সাধারণ ডিপোজিটররা আস্থা ফেরত পান। রুগ্ন ব্যাংকগুলোকে দাঁড় করাতে হলে ডিপোজিটরদের যে আস্থা আছে তা ফেরত আনতে হবে। কোন ব্যাংকের প্রতি যদি আমানতকারীর আস্থা পরে যায় তবে তা ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন। এটি অনেক কঠিন কাজ। আমরা অনেক বড় অঙ্কের ডিপোজিট দিতে পারবো না। এটা গভর্নর সাহেবও পুরোপুরি আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। সবচেয়ে বেশি জরুরী, যারা সরাসরি ব্যাংক
পরিচালনা করছেন তাদের পদক্ষেপ নেয়া। যাদের সাথে ব্যাংকের লেনদেন রয়েছে তাদের আস্থা অর্জন করা।

বিএবির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএবি এবং ব্যাংকিং সেক্টরে আসা পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে আব্দুল হাই সরকার বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে পুরো সেক্টরটিকে ঘুরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছি। এর মধ্যে আমরা এক বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাব। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অথবা ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ওইটা ডিস্ট্রিবিউশনটা করবে। কিন্তু উনারা একটা শর্ত জুড়ে দিয়েছে। যারা ভালো ব্যাংক এই টাকা তাদেরকে দিতে হবে। যাদের দরকার তাদের দেয়া যাবে না। বুঝছেন তো, দোজ হু আর রিয়েলি প্রি লিম্পিং, যারা খোড়া হয়ে চলছে দে রিকোয়ার ফান্ড মাচ মোর দেন দি গুড ব্যাংক।
অন্যদিকে যারা ইনভেস্টমেন্ট করবেন তারাও করবে না, ইফ দি রেমিটেন্স ফ্লো রিমেইন লাইক দিস কন্টিনিউয়াসলি। অন দি কান্ট্রি, এক্সপোর্ট কিন্তু বেড়ে যাচ্ছে খুব। আর এক্সপোর্টের জন্য বেশিরভাগ যারা গার্মেন্ট এক্সপোর্ট করেন তাদের ওখানে কিন্তু এখন বায়ারের লাইন রয়েছে। দাম অনেক বেশি না বাড়লেও, ডিমান্ডের কোন শেষ নাই এখানে। ডলার ফ্লো’টা বাড়বে কিন্তু অনেক বাড়বে সামনে।
বর্তমানে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশে বিদেশি বিনিয়োগে যারা আসবেন তারা প্রথমে দেখবেন এখানকার স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা কেমন আছেন। ওটা ইমপ্রুভ করতে হবে সবার আগে। এই মুহূর্তে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিটা ঠিক করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। আমি বলছি না যে ইম্প্রুভ হয় নাই। কিন্তু আরও ইম্প্রুভ করতে হবে। সরকার থেকে আরও শক্ত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ণ প্রধান শর্ত।
অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধানের বলা মন্তব্য, দেশের বর্তমান মূল্যস্ফিতি সামনের দিনে ৮ শতাংশে কমে আসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্পেকুলেশন কুড বি রাইট কুড বি রং। এটা অনেক ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। যারা এই কমেন্টস করছেন তারা সরাসরি সমস্যার ওপরে বসে আছেন। আমরা সাধারণ মানুষ, আমদের পক্ষে এটা বলা মুশকিল। বিষয়টা নেমে আসবে আস্তে আস্তে। পৃথিবী তো আর এভাবে চলতে পারে না। উনি কোন ফ্যাক্টরের উপরে কিভাবে বলছেন সেটা সম্বন্ধে আমার এপ্রিশিয়েট করা একটু মুশকিল আমার জন্য। কারণ আপনি যখন কমেন্ট পাস করবেন তখন সেই কমেন্টে কিছু ফাউন্ডেশন থাকা লাগবে। উনি যখন বলেছেন, উনি ভালো বলতে পারবেন।

বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতিতে আমেরিকার রাষ্ট্রনীতির প্রভাব, প্রেক্ষাপট এবং পরিবর্তন সম্পর্কে এই ব্যবসায়ীক নেতা বলেন, আপনি যদি গ্লোবাল চেঞ্জ আনতে চান, সেটা কন্টেইন করে আনতে হবে। ইউ হ্যাভ টু কন্টেইন। ইফ ইউ স্টার্ট ডুইং ইট বাই রেভুলেশন তাহলে এটা লাস্টিং হবে না। ইউ হ্যাভ টু গো থ্রু ইভুলেশন প্রসেস। এখন বলা হয় কানাডা আমেরিকার পার্ট। এক সময় বলা হতো, পানামার কথা। আবার উনি গাজাকে প্রমোদ কেন্দ্র বানাতে চান। বর্তমানে চায়নার সাথে গোলমাল। ইন্ডিয়ার প্রাইম মিনিস্টার উনার খুব ক্লোজ ফ্রেন্ড। ওখানেও ডিউটি বসায় দিয়েছে। এরপরে উনি মোদি সাহেবকে দাওয়াতও দিয়েছেন, নিমন্ত্রণ করছেন যাওয়ার জন্য। দুই সপ্তাহের ভিতরে আবার প্লেন লোড অফ ইলিগাল ইন্ডিয়ান বিং সেন্ট টু বোম্বে।
তিনি বলেন, সুতরাং কাজের সাথে কিন্তু কোন সামঞ্জস্যতা দেখা যাচ্ছে না। কাজেই আমেরিকা যেই জিনিসটাকে রিপ্রেজেন্ট করে, ইট লুকস লিটল বিট ফানি। কারণ উনারা এতগুলা কাজ একসাথে করার জন্য কোন কাজই সাকসেসফুল করতে পারছেন না। আমি মনে করি, যদি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে বাদ দিয়ে তারা কাজ করে তখন আমেরিকা উইল বি ফর আমেরিকানস। তাদের বাইরে সারভাইভ করার মুশকিল হবে। তখন তো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে তখন থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রির সাথেই করতে হবে। দে হ্যাভ টু সারভাইভ। দে হ্যাভ টু সাইন এগ্রিমেন্ট উইথ বাংলাদেশ। সব দেশের সাথেই করতে। তাদের ডাইভার্সনটা করতে হবে, তখন দে উইল সেল ম্যাটেরিয়াল টু বাংলাদেশ এন্ড অলসো উই বাই ফ্রম দেম ইন্টারডিপেন্ডেন্টলি। যেহেতু আমেরিকার বিরাট মার্কেট আছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে এখন সেটাকে যদি বন্ধ করে, বন্ধ করে দিতে অলরেডি ডিউটি বসায় দিয়েছে, এরাও তো অ্যাকশন নিচ্ছে।
আপনার সুন্দরভাবে আস্তে আস্তে চেঞ্জ করতে হবে। ইউ হ্যাভ মাস্ট প্রজেকশন দ্যাট ইউ আর গোনা চেঞ্জ ইন দিস প্লেসেস কিন্তু সেগুলাকে এমনভাবে করতে হবে যাতে সাপ মারতে পারে লাঠি যেন না ভাঙ্গে।







