নড়াই নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর উচ্চতা বাড়িয়ে রামপুরা ব্রিজ থেকে বালু নদী পর্যন্ত নৌপথ সচল করার দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠন নোঙর বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নড়াই নদীর উধাও হয়ে যাওয়া নামফলক পুনঃস্থাপনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (৯ আগস্ট) নড়াই সেতুর উচ্চতা বৃদ্ধির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে নোঙর বাংলাদেশ ও পরিবেশকর্মীরা এসব দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঢাকার চারপাশের নদীগুলোতে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে আফতাবনগর-বনশ্রী সংযোগকারী নির্মাণাধীন নড়াই সেতুর নকশা এ পরিকল্পনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুর খিলানের উচ্চতা নদীর পানির স্তর থেকে ১১ মিটারের কম হওয়ায় এর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাস, স্কাভেটর, ড্রেজারসহ বড় নৌযান চলাচল করতে পারবে না বলে দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে নোঙর বাংলাদেশের সভাপতি সুমন শামস বলেন, নদী একটি জীবন্ত সত্তা। উচ্চ আদালতের এমন স্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও নড়াই নদীকে খাল হিসেবে উল্লেখ করে এর অস্তিত্ব সংকটে ফেলা হচ্ছে। বর্ষাকালে নড়াই সেতুর নিচ দিয়ে ওয়াটার বাস চলাচল তো দূরের কথা, নদী রক্ষায় প্রয়োজনীয় স্কাভেটর ও ড্রেজারও চলাচল করতে পারবে না। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌপথ বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবর নড়াই নদী রক্ষায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মানববন্ধন ও নৌ-র্যালির আয়োজন করা হয়েছিল। ওই সময় রামপুরা ব্রিজের পাশে নড়াই নদীর নামফলক স্থাপন করে নোঙর বাংলাদেশ। গত ২৬ জুন সেই নামফলকটি উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনায় গত ১৩ জুলাই রামপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধন থেকে নোঙর বাংলাদেশ ও পরিবেশকর্মীরা তিন দফা দাবিতে জানান, বর্ষায় নৌপথ সচল রাখতে অবিলম্বে নড়াই সেতুর উচ্চতা বাড়িয়ে হাতিরঝিল/রামপুরা ব্রিজ থেকে বালু নদী পর্যন্ত ওয়াটার বাস, নদী খননের স্কাভেটরসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। উধাও হয়ে যাওয়া ‘নড়াই নদী’ নামফলক আগের স্থানে পুনঃস্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি নদীর দূষণ বন্ধ করে দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর ওপর মাস্টারপ্ল্যানে চিহ্নিত কম উচ্চতার ১৩টি সেতু ভেঙে উচ্চতা বাড়িয়ে পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এর মধ্যে এলজিইডির ছয়টি, সেতু বিভাগের ছয়টি এবং রেলওয়ের একটি সেতু রয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তথ্যমতে নড়াই নদী কোনো খাল নয়। এটি হাতিরঝিল ও বালু নদীর সংযোগকারী প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ঐতিহাসিক নদী। দ্রুত সেতুর নকশা সংশোধন করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নৌ চলাচল নিশ্চিত করা না হলে রামপুরা-আফতাবনগর এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নদী গবেষক আলিউদ্দিন আহম্মেদ, নোঙর বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলে রাব্বি সানি, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা জামিলুর রহমান নয়ন, আগামীর বাংলাদেশের সভাপতি আলমগীর পারভেজ, নদী কর্মী ও সমাজসেবক মো. আজিজ, তরিকত ফেডারেশনের সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূঁইয়া, পরিবেশকর্মী মোহাম্মদ আলী মিন্টু ও মো. ফারুক হোসেন।








