রাজধানীতে বৈদ্যুতিক বাস চালুর বিষয়ে নভেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এ তথ্য জানান।
বায়ু দূষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার কথা উল্লেখ করে রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাস্তায় নতুন বাস দেখা যাচ্ছে না। পুরোনো বাসগুলো থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। তবে অভিযানের ফলে কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী বাসের সংখ্যা কমছে। নগরবাসীকে বাঁচাতে দূষণ বন্ধে পাঁচ বছর আগেই কাজ শুরু করার দরকার ছিল।
বৈদ্যুতিক বাস আনার মাধ্যমে দূষণ কমানোর বিষয়ে সরকারের কাজের অগ্রগতি জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন করে বৈদ্যুতিক বাস আনার জন্য কাঠামো স্থাপন, বাজেট নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা করতে হবে। এসব করতে সরকারের এক থেকে দেড় বছর লাগবে। তারপরও সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
আবর্জনা ও আবাসনের ব্যানার দিয়ে দেশের সব জমি দখল করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার কথাও বলেন তিনি।
মেগা প্রকল্পে মনোযোগ কমিয়ে পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা উন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন উপদেষ্টা। জনঘনত্ব সমাধানে বাধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্জ্য সংক্রান্ত রাজনীতির কারণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। অথচ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা অত্যন্ত জরুরি।
উপদেষ্টা বলেন, “সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, গবেষক ও নাগরিক সমাজ—সকলের অভিন্ন প্রচেষ্টা ছাড়া টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ এবং অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান। মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (জলবায়ু পরিবর্তন) ধরিত্রী কুমার সরকার কর্মশালাটি পরিচালনা করেন।
উন্মুক্ত আলোচনায় দেশি-বিদেশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।








