এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইন্দোনেশিয়ায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, এতে আরও অনেকে আহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সংখ্যা প্রাথমিক এবং উদ্ধার অভিযান চলায় তা আরও বাড়তে পারে।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
স্থানীয় এক উদ্ধারকর্মী অবশ্য জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল যত অগভীর হয়, সাধারণত ভূপৃষ্ঠে এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব তত বেশি হয়।
ভূমিকম্পের পর একই এলাকায় বেশ কয়েকটি শক্তিশালী পরাঘাত অনুভূত হয়। এর মধ্যে একটি পরাঘাতের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১।
ভূমিকম্প ও পরবর্তী কম্পনে বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ঘুমের মধ্যেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিএনপিবি জানিয়েছে, সিক্কা প্রদেশে তিনজন, মাংগারাই প্রদেশে ছয়জন এবং পূর্ব মাংগারাই প্রদেশে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে অন্তত দুজন গুরুতর এবং ১১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
প্রাথমিক হিসাবে ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাংগারাই প্রদেশকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়। সতর্কতা জারির পর প্রায় দুই হাজার মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে যান। মোটরসাইকেলে করে অনেক মানুষকে উপকূল থেকে ভেতরের দিকে চলে যেতে দেখা যায়।
তবে ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সমুদ্রপৃষ্ঠের উল্লেখযোগ্য উচ্চতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
তালিবুরা গ্রামের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো জানান, প্রবল কম্পনে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর তিনি দ্রুত সন্তানের ঘরে যান। আতঙ্কে অনেক মানুষ পাহাড়ের দিকে চলে যান।
তিনি বলেন, কিছু মানুষ রাস্তার পাশে অবস্থান করছিলেন, কারণ সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিকভাবে সরে গিয়েছিল। দীর্ঘ সময় পানি নিচু অবস্থায় থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও গিয়ে দেখেন, সেখানকার মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় ভূমিকম্পে মোট কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিরূপণে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ দেশ। দেশটি বিশ্বের তিনটি প্রধান ভূত্বকীয় প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকা ও ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।








