সিপিবির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমরেড হায়দার আকবর খানের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। বিবৃতিতে আগামী সোমবার ১৩ মে তার মৃত্যুতে শোক দিবস ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (১১ মে) সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেয় সিপিবি।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, হায়দার আকবার খান রনোর মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক, আজীবন সংগ্রামী, দেশের মানুষের শোষণ মুক্তির সংগ্রামের প্রিয় মানুষকে হারালো।
তারা বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কমরেড রনো ৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানি স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ, এদেশে অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল ছিলেন। জেল-জুলুম নির্যাতন উপেক্ষা করে তিনি তার সংগ্রামী জীবন অব্যাহত রেখেছিলেন। একজন মার্কসবাদী তাত্ত্বিক হিসেবে তিনি অসংখ্য লেখনি রেখে গেছেন, যা নতুন প্রজন্মের জন্য সংগ্রামের প্রেরণা হিসেবে থাকবে।
তিনি জীবনের শুরুতেই ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। ছাত্র আন্দোলন শেষে শ্রমিকের লড়াইয়ে শামিল হন। এই অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে শ্রমিকশ্রেণির মুক্তি আন্দোলনকেও ত্বরান্বিত করেন।
এদেশের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষকে সংগঠিত করার মাধ্যমে শোষণমুক্তি ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আজীবন তিনি নিয়োজিত ছিলেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এর প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি সংগঠন অগ্রসর করার কাজেও আত্মনিয়োগ করেছিলেন। দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যেও পার্টির দায়িত্ব পালনে তিনি কখনও পিছু হটেননি।
সিপিবির সারা দেশের নেতাকর্মীরা কমরেড রনোর মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। এই শোকাহত মুহূর্তে আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানাই। একইসাথে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করি, তার কর্মযজ্ঞকে সামনে রেখে আগামী দিনে দেশে সমাজতন্ত্র তথা ‘মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ’ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করার মধ্য দিয়ে তাকে প্রতি মুহূর্তে আমরা স্মরণ করব।
তার মৃত্যুতে সিপিবির একাধিক কর্মসূচির ঘোষণা:
কমরেড হায়দার আকবর খান রানোর মরদেহ আজ ১১ মে সকালে তার ধানমন্ডিস্থ বাসস্থানে নেওয়া হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যবৃন্দ ছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টি ও অন্যান্য পার্টি এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে দেখার জন্য ছুটে যান। এরপর শমরিতা হাসপাতালের মরচুয়ারিতে তার মরদেহ রাখা হয়।
আগামী ১৩ মে ১০টায় কমরেড হায়দারের লাশ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনে আনা হবে। সেখানে পার্টির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর সকাল ১১টায় লাশ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। জাতির পক্ষ থেকে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
দুপুর দেড়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। নামাজে জানাজার শেষে বনানীস্থ কবরস্থানে দাফন করা হবে।
সোমবার শোক দিবস:
আগামী ১৩ মে সোমবার সারা দেশে পার্টি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কমরেড হায়দার আকবর খান প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও শোক দিবসের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।







