বসুন্ধরা কিংস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন কিউবা মিচেল। ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবটির সঙ্গে সম্পর্ক চ্ছিন্নের কারণও জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল তারকা। বকেয়া বেতন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কিংসের সঙ্গে চুক্তির শেষ টানলেন তিনি। এর আগে তারিক কাজীও একই পথে হেঁটেছেন।
ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার কিউবা মিচেল আগে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ ক্লাব সাদারল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলে নিয়মিত খেলতেন। চলতি মৌসুমে কিংসে যোগ দিয়েছিলেন। তিনমাস না যেতেই ক্লাবটি ছাড়ার ঘোষণা দিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিউবা। লিখেছেন, ‘আজ বকেয়া বেতন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আমার চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
‘এটাই ছিল আমার এই সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ। তবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা অমীমাংসিত থাকায় এমন পরিবেশে খেলা মানসিক ও শারীরিক দুদিক থেকেই অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছিল।’
বাংলাদেশের মানুষ এবং সংস্কৃতি আপন করে নিয়েছেন কিউবা মিচেল, ‘আমার সময়টা এখানে স্বল্প হলেও তা ছিল প্রভাবপূর্ণ। এখানে আসার পর থেকেই এখানকার জীবনধারা, সংস্কৃতি ও মানুষকে আপন করে নিয়েছিলাম। কিছু সত্যিকারের ভালো সতীর্থ ও সমর্থকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন এবং আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন কেন আমি এই খেলাটিকে ভালোবাসি।’
‘পুরো সময়জুড়ে আমি পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছি। অনুশীলন করেছি, প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি এবং ক্লাবের জার্সির প্রতি সম্মান দেখিয়েছি। একজন ফুটবলার শুধু মাঠের পারফরম্যান্সই দেয় না, সে দেয় প্রতিশ্রুতি, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাস। এর বিনিময়ে মৌলিক দায়িত্বগুলো পূরণ হওয়াই স্বাভাবিক।’
সবকিছুর পরেও কোন তিক্ততা নেই কিউবার। বরং নিজের স্মৃতি জন্য জানিছেন কৃতজ্ঞতা, ‘এই পরিস্থিতির পরও আমি কোন তিক্ততা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি না। অল্প সময়ের মধ্যেই যে সম্পর্কগুলো গড়ে উঠেছে এবং যে অভিজ্ঞতা পেয়েছি, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এই স্মৃতিগুলো আমার সঙ্গে থেকে যাবে।’
‘বাংলাদেশের ফুটবল আরও ভালো কিছুর প্রাপ্য। খেলোয়াড়দের প্রতি ন্যায্যতা ও উন্নত কাঠামো দরকার, যারা প্রতিদিন এই খেলাটির জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। এখানে অগাধ আবেগ ও সম্ভাবনা রয়েছে, যা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে।’
বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে যে খেলোয়াড়দের এখনও সমস্যা হচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য কিউবা বলেছেন, ‘আমি আশা করি, যারা একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, বিশেষ করে যারা বকেয়া পারিশ্রমিক বা ভঙ্গ প্রতিশ্রুতির কারণে নীরবে কষ্ট পাচ্ছেন, তারা নিজেদের কণ্ঠস্বর খুঁজে পাবেন। ন্যায্য ও পেশাদার আচরণ চাওয়ার কারণে কোন খেলোয়াড়ের নিজেকে অসহায় মনে করা উচিত নয়।’
পরবর্তী পদক্ষেপ বুঝেশুনেই নেবেন তিনি, ‘আমি স্পষ্টতা ও লক্ষ্য নিয়ে আমার পরবর্তী অধ্যায়ে পা রাখছি।’







