বৌদ্ধধর্মালম্বীদের ধর্মীয় গুরু শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তের ১০৬তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই রাঙ্গামাটি রাজবনবিহারে শুরু হয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান। জন্মদিনকে ঘিরে রাজবনবিহারে নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের ঢল।
আজ (৮ জানুয়ারি) বুধবার বৌদ্ধধর্মালম্বীদের ধর্মীয় গুরু শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তের ১০৬তম জন্মদিন উপলক্ষে সকালে কেক কাটেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাথেরো। এসময় ভিক্ষুসংঘ ও উপাসক উপাসিকা পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কেক কাটা শেষে বনভান্তের লেখা জয় জয় বুদ্ধ পতাকা গানটি পরিবেশন করে বুদ্ধপতাকা উত্তোলন করেন সমবেত পুণ্যার্থীরা। এরপর ভিক্ষুসংঘের মাঝে পানীয় প্রাতঃরাশ ভোজন দান করা হয়। সকালে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহার অনুষ্ঠান মঞ্চে সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান, বুদ্ধমুর্তি দানসহ বিবিধ দানানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বনভন্তের জন্মদিন উপলক্ষে রাজবনবিহারে বিজ্ঞান ও বিনয় সম্মতভাবে বিশেষ কফিনে রাখা বনভন্তের মরদেহে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বৌদ্ধধর্মালম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষ।
এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি রাজবনবিহার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি নিরুপা দেওয়ান জানান, নানা ধর্মীয় আয়োজনের মাধ্যমে রাঙ্গামাটিতে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তের ১০৬তম জন্মদিন পালিত হচ্ছে। বনভন্তে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু হলেও সকাল থেকেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের ঢল নেমেছে।
উল্লেখ্য, আর্যপুরুষ শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তে ১৯২০সালের ৮ জানুয়ারি রাঙ্গামাটি সদর উপজেলাধীন মগবান ইউনিয়নের মোড়ঘোনা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। বনে-জঙ্গলে দীর্ঘসময় ধরে তিনি সাধনা করেছিলেন বলেই তিনি বনভন্তে হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি শিশুকাল থেকেই ধ্যান সাধনা করতেন। দীর্ঘ সাধনার পন অবশেষে তিনি সিদ্ধি লাভ করেন। তারপর থেকেই বনভন্তে শুরু করেন ধর্ম প্রচার।
বনভন্তে ২০১২ সালের ৩০ জানুয়ারি ৯৩ বছর বয়সে পরিনির্বাণ (দেহত্যাগ) লাভ করেন। বনভন্তে সবসময় শান্তির কথা বলেছিলেন। বনভন্তের জন্মদিনে সেই শান্তির বাণী বুকে ধারণ করে পাহাড়ে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।









