এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
প্রয়াত লিবিয়ান নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে হানিবাল গাদ্দাফিকে লেবাননে প্রায় এক দশক ধরে বিচার ছাড়াই আটক রাখার পর ১১ মিলিয়ন ডলারের জামিনে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) লেবাননের শিয়া নেতা মুসা আল-সদরের অপহরণ ও নিখোঁজ হওয়ার মামলায় হানিবাল গাদ্দাফির জামিনের রায় নিশ্চিত করেছে।
তার আইনজীবী লরেন্ট বেয়ন সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, “যেহেতু নির্বিচারে আটক রাখার মামলায় জামিনে মুক্তি সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য, আমরা জামিনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করবো।”
“তিনি কোথায় ১১ মিলিয়ন ডলার পাবেন?” এমন প্রশ্ন করে বেয়ন আরও বলেন, তার মক্কেল “আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন এবং তিনি বড় অঙ্কের জামিনের টাকা দিতে পারবেন না।”
লেবাননের কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে গাদ্দাফিকে গ্রেপ্তার করে এবং ১৯৭৮ সালে লিবিয়ায় আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার তথ্য গোপন করার অভিযোগে করা এই মামলাটি করা হয়।
তৎকালীন লিবিয়ান নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সাথে দেখা করতে লিবিয়ায় যাওয়ার সময় আল-সদর লেবাননে একজন আইকনিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
আল-সদর আমাল আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হিজবুল্লাহর মিত্রের সহযোগী এবং একজন সাংবাদিকের সাথে সফরে নিখোঁজ হয়েছিলেন। তারপর থেকে তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।
আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে গাদ্দাফির সরকারিভাবে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এবং তিনি নিখোঁজের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে পড়ে।
লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি, লিবিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষকে আল-সদরের অন্তর্ধানের বিষয়ে সহযোগিতা না করার অভিযোগ করেছেন, যা লিবিয়া অস্বীকার করে।
এদিকে আল-সদরের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে হানিবাল গাদ্দাফি ২০১৫ সাল থেকে বিনা বিচারে লেবাননের কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
হানিবাল গাদ্দাফির আইনজীবী বেয়ন বলেন, তার মক্কেলের বয়স এখন ৪৯, অর্থাৎ আল-সদর নিখোঁজ হওয়ার সময় তার বয়স প্রায় দুই বছর ছিল।
শুক্রবার বিচারকের রায়ের পর, আল-সদর পরিবার গাদ্দাফির জামিনের রায়ের প্রতিবাদে বিস্ময় প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দেয়।
আল সদরের পরিবার জানায়, “আজ তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্তে আমরা হস্তক্ষেপ করবো না। হানিবল গাদ্দাফির গ্রেপ্তার বা মুক্তি আমাদের লক্ষ্য নয়, বরং একটি নিছক আইনি প্রক্রিয়া। আমাদের প্রাথমিক বিষয় হল ইমাম আল-সদর এর অন্তর্ধান।”
গত আগস্ট মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ লেবাননকে অবিলম্বে হানিবাল গাদ্দাফিকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছিল, আল-সদর এর ব্যপারে অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে।
লিবিয়ান কর্তৃপক্ষ ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। কারণ, বিচার ছাড়াই তাকে আটকের প্রতিবাদে তিনি অনশনে যাওয়ার ফলে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।
এই প্রতিবেদন অনুসারে, লিবিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেল আল-সেদিক আল-সৌর তার লেবাননের প্রতিপক্ষ ঘাসান ওয়েইদাতের কাছে অনুরোধ পত্র পাঠিয়েছিলেন। আল-সৌর বলেন, গাদ্দাফিকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে লেবাননের সহযোগিতা আল-সদর সম্পর্কে সত্য প্রকাশে সহায়তা করতে পারে।








