কোপা আমেরিকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য শেষ হয়েছিল। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি ৯৭ মিনিটে তিন অদল-বদল আনেন। লৌতারো মার্টিনেজ, লিসাদ্রো পারেদেস ও জিওভান্নি লো সেলসোকে নামান। বেঞ্চে বসেন জুলিয়ান আলভারেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার ও এনজো ফের্নান্দেজ। সেই সিদ্ধান্তই হয়ে যায় ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।
আক্রমণে ঠাসা ও উত্তেজনা ছড়ানো লড়াইয়ের ১১২ মিনিটে আসে সুপারসাব লৌতারো মার্টিনেজের লক্ষ্যভেদের স্মরণীয় মুহূর্ত। মাঝমাঠ থেকে গড়া আক্রমণে জিওভান্নি লো সেলসোর বাড়ানো বল নিয়ে ডানপায়ের উঁচু শটে নিশানাভেদে তিনি আর্জেন্টিনাকে বুনো উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন। কোচের কৌশলকে সফলতায় রূপ দেন। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে টানা দ্বিতীয়বার কোপার ট্রফি ঘরে তোলে আকাশী-নীলরা।
পরে স্কালোনি বলেছেন, ‘পরিবর্তনগুলো চিন্তা করা হয়েছিল, কারণ আমরা বিশ্বাস করেছিলাম দলটা উন্নতি করতে চলেছে৷ শারীরিকভাবে আমরা খারাপ করছিলাম এমন নয়৷ এনজো ভালো খেলছিল, অ্যালেক্সিস একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিল৷ আমরা ইতিমধ্যেই জানি, জুলি (আলভারেজ) দৌড় বন্ধ করে না।’
‘আমরা ভাবছিলাম আরও একটি মাত্রা যোগ করতে হবে। লৌতারো মাঠে থাকবে এবং গোল করতে চলেছে। বেঞ্চে বসে আমরা এটা বলাবলি করছিলাম। লো সেলসোর পাস ও দলগত কর্মকাণ্ড ছিল। সে এমন একজন খেলোয়াড়, যাকে আমরা সবসময় পছন্দ করি। কারণ সবসময় আমাদের সাথে সে ছিল এবং সময় মতো এগিয়ে এসেছে।’
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দলের প্রধান স্ট্রাইকার ছিলেন মার্টিনেজ। ৬ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি, অ্যাসিস্টও ছিল না। আস্থার প্রতিদান তখন দিতে না পারায় স্কালোনি তাকে পুরো ম্যাচ খেলাতে পারেননি। এবারের কোপা আমেরিকায় যেন আবারও চেনাছন্দে ফিরলেন। আসরে ৫ গোল করে জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন বুট।
ফর্মে ফেরা শিষ্যকে নিয়ে আনন্দিত আলবিসেলেস্তেদের কোচ, ‘লৌতারো নিজের কাজ বন্ধ রাখেনি। গোল তার প্রাপ্য ছিল। যখন তাকে দল থেকে সরিয়ে দিয়েছিলাম, তখন সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আসরে সর্বাধিক গোলদাতা হয়েছে। জানি আমার ব্যাপারে সে সন্তুষ্ট নয়। অবশ্যই এটা ঠিক, কারণ সে খেলতে চায়।’
‘আমরা সঠিক বা ভুল যা-ই হই না কেনো, বিশ্বাস করি দলকে সেভাবে খেলতে হবে এবং এটাই আমাদের জয় এনে দিয়েছে। সবকিছুর জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা।’







