ককপিটে দুই পাইলটের সংঘর্ষ, হাইজ্যাক সংকেতে যুদ্ধবিমান পাঠাল ইসরায়েল

ছবি-এআই
দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী দুবাইয়ের একটি বিমানে দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জরুরি অবতরণ করতে হয়েছে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে একজন পাইলটকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা। এসময় বিমান থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত এবং পরে সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের সংকেত পাঠানো হলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮। ফ্লাইটটির নম্বর ছিল এফজেড১০৭৩। বিমানে প্রায় ১৮০ জন ইসরায়েলি যাত্রী ছিলেন।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর বিমানটি ‘৭৭০০’ সংকেত পাঠায়। আন্তর্জাতিকভাবে এই সংকেত সাধারণ জরুরি পরিস্থিতি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। কিছুক্ষণ পর সেটি পরিবর্তন করে ‘৭৫০০’ করা হয়, যা বিমানে বেআইনি হস্তক্ষেপ বা সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের সংকেত। এই সংকেত পাওয়ার পর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সতর্ক হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানও আকাশে পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
পরে জানা যায়, বিমানটি ছিনতাই হয়নি। বরং ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, ককপিটে পাইলটদের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। তবে কী কারণে এই সংঘর্ষ শুরু হয়, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। মারামারির একপর্যায়ে একজন পাইলট অন্য পাইলটকে ছুরিকাঘাত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ককপিটের দিকে এগিয়ে যান।
যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তারা বিমানের ভেতর চিৎকার শুনতে পান। পরে ককপিটের দরজা খোলার পর সেখানে রক্ত দেখতে পান। ‘মিরিয়াম’ নামে এক যাত্রী স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, একজন পাইলটকে ভাঁজ করা ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। পরে বিমানে থাকা সব ইসরায়েলি যাত্রী নিরাপদে আছেন বলে জানানো হয়।
ঘটনার সময় বিমানটি মাত্র দুই মিনিটে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০ ফুট নিচে নেমে যায়। প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা বিমানটি নেমে আসে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায়। এর কিছুক্ষণ পরই বিমান থেকে প্রথম জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। পরে সম্ভাব্য ছিনতাইয়ের সংকেত ‘৭৫০০’ সক্রিয় হওয়ার পর পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠানো হয় বলে এক কর্মকর্তা জানান। তবে পরে স্পষ্ট হয়, বিমানটি ছিনতাইয়ের শিকার হয়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ঘটনার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, বিমান নিয়ে উদ্বেগের খবর পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। বিমানে থাকা ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল বলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।






