চীনে বিমানবাহী রণতরীতে ব্যবহৃত বিমানের নারী পাইলটদের প্রথম দল গুরুত্বপূর্ণ অবতরণ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। দিনের বেলায় চলন্ত রণতরীর ডেকে এককভাবে হেলিকপ্টার অবতরণ ও পুনরায় উড্ডয়নের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর তারা এখন রাতের প্রশিক্ষণ শুরু করেছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) চীনের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী পাইলটদের এই সাফল্য দিন ও রাত এবং স্থল থেকে সমুদ্রসহ বিভিন্ন পরিবেশে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
পীত সাগরে প্রশিক্ষণের সময় নারী পাইলট ক্যাডেটরা হেলিকপ্টার নিয়ে রণতরীর কাছে পৌঁছান। এরপর নির্ধারিত পথে চলন্ত জাহাজের ডেকে অবতরণ এবং সেখান থেকে আবার উড্ডয়নের পরীক্ষা দেন তারা। এ সময় দুটি সহায়ক জাহাজ পাশাপাশি থেকে সমন্বয় করে এবং রণতরীর কর্মীরা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে পাইলটদের সহায়তা করেন।

চলন্ত বিমানবাহী রণতরীর ডেকে এককভাবে অবতরণ ও উড্ডয়ন একজন পাইলটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। সমুদ্রের ঢেউ, বাতাস এবং জাহাজের দুলুনির কারণে স্থলভাগের তুলনায় সমুদ্রে হেলিকপ্টার অবতরণ অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। ফলে পাইলটকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।
পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) নৌ বিমান চলাচল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডেট ওয়াং মেংতি বলেন, আমরা একটি বড় মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই। অবতরণের জায়গাটি ছোট। ঢেউ ও সমুদ্রের বাতাসে জাহাজটি দুলতে থাকে। তাই হেলিকপ্টার আরও নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

দিনের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করার পর নারী পাইলটরা রাতের প্রশিক্ষণ শুরু করেন। অন্ধকারে দৃশ্যমানতা কম থাকায় এ সময় ককপিটের বিভিন্ন যন্ত্রের ওপর তাদের বেশি নির্ভর করতে হয়। যন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে গতিপথ ঠিক করা এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করে নিরাপদে অবতরণের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তারা।
পিএলএ নৌ বিমান চলাচল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশিক্ষক চাং ইংচিয়ে বলেন, সামনের সারির ইউনিটে যোগ দেওয়ার আগে ক্যাডেটদের পাঠ্যসূচির সব প্রশিক্ষণ শেষ করতে হবে এবং চূড়ান্ত মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হতে হবে।










