থাইল্যান্ডের পাতায়ায় স্যুটকেসের ভেতর ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধে মৃত্যুর প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইমন পিটার কারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৭ জুন ভোরে পাতায়ার একটি রেললাইনের কাছে স্যুটকেসের ভেতর তুনচানক দোনহোমলার মরদেহ পাওয়া যায়। এর মাত্র ১৫ মিনিট আগে কারম্যানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, তিনি ওই সময় দেশ ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পাতায়া সিটি পুলিশের প্রধান আনেক শ্রাথংইউ বুধবার ১৯ আগস্ট সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শ্বাসরোধের কারণে তুনচানকের মৃত্যু হয়েছে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে। তবে সেটি মৃত্যুর কারণ নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। মরদেহ স্যুটকেসে ঢোকানোর সময় আঘাতটি লেগে থাকতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, তুনচানকের শরীর থেকে পাওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে কারম্যানের ডিএনএ’র মিল পাওয়া গেছে। পুলিশ কর্মকর্তার ধারণা, মরদেহ স্যুটকেসে রাখার সময়ই ওই ডিএনএ সেখানে থাকতে পারে। কারম্যানের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এগুলো হলো হত্যা, মরদেহ গোপন বা স্থানান্তর, ১৫ বছরের বেশি কিন্তু ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুকে অপহরণ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে ওই বয়সী শিশুকে নিয়ে যাওয়া।
পুলিশ কর্মকর্তা আনেক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কারম্যান সব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। তিনি তুনচানককে সঙ্গে নিয়ে বাইরে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে আদালতে পরে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও পুলিশ মামলার প্রতিটি দিকের প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করেছেন আনেক।
শুক্রবারের মধ্যে মামলাটি প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানোর জন্য পুলিশ প্রস্তুত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের নির্ধারিত সময়সীমা ১৮ সেপ্টেম্বর।
পুলিশের আগে প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৫ জুন স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৩৪ মিনিটে কারম্যান তুনচানককে নিয়ে একটি কনডোমিনিয়ামে প্রবেশ করেন। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তিনি একাই সেখান থেকে বের হন এবং তার হাতে একটি বড় স্যুটকেস ছিল বলে পুলিশের দাবি। এরপর মোটরসাইকেলে করে স্যুটকেসটি নিয়ে তিনি রেললাইনের দিকে যান।
গ্রেপ্তারের পর কারম্যান অভিযোগগুলো অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি আত্মরক্ষার জন্য ওই কাজ করেছেন। পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, তুনচানকের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে ১ হাজার থাই বাত দেওয়ার কথা ছিল তার। পরে তারা তার অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে গেলে অর্থের পরিমাণ ৫০০ বাত দেওয়ার প্রস্তাব করায় দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
হেফাজতে থাকা অবস্থায় ধারণ করা এক ভিডিওতে তুনচানকের পরিবারের উদ্দেশে কারম্যান বলেন, আপনাদের মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, তার জন্য আমি দুঃখিত। বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।
তুনচানক, যার ডাকনাম ছিল কেক, গত ১৬ জুন পাতায়ায় বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। তিনি থাইল্যান্ডের কালাসিন প্রদেশে বাবা ও সৎমায়ের সঙ্গে থাকতেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি।
তুনচানকের বাবা থংচাই দোনহোমলা মেয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার সৎমা ওরাদি বুসারাকুম জানান, মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার পর যে আশঙ্কা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সেটিই সত্যি হয়েছে।
মামলায় কারম্যান দোষী সাব্যস্ত হলে থাইল্যান্ডের আইনে তার মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে জানা যায়।










