চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ বিলিয়ন ডলারের শুল্ক কমানোর চুক্তি, এআই নিয়ে সংলাপ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে দুই দেশের মধ্যে ৩০ বিলিয়ন ডলারের পারস্পরিক শুল্ক কমানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নিয়মিত সংলাপ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।
শনিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের তিন দিনের ওয়াশিংটন সফরে দুই দেশ আট দফা সমঝোতায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে শুল্ক কমানো, এআই নিয়ে সংলাপ, বাণিজ্য কাউন্সিল গঠন এবং কুয়ালালামপুরে আগের আলোচনার ফলাফল এগিয়ে নেওয়ার বিষয় রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এআই প্রযুক্তির ঝুঁকি ও সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশ সংলাপ করবে। আগামী নভেম্বরেই এ বিষয়ে পরবর্তী বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া এআই-সংক্রান্ত কোনো জরুরি ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে যোগাযোগের জন্য একটি আলাদা চ্যানেল চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এআইয়ের পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের বিষয়টিকে চীন গুরুত্ব দিয়েছে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দুই দেশের আরও বেশি যোগাযোগ ও মতৈক্য তৈরির চেষ্টা করা উচিত বলেও জানিয়েছে বেইজিং।
এর আগে দুই দেশ ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকা বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বড় ধরনের একটি বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় দিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিন দিনের বৈঠক শুক্রবার শেষ হয়। সফরটিতে ব্যক্তিগত কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেখা গেলেও বড় কোনো প্রকাশ্য অগ্রগতি ঘোষণা করা হয়নি। শনিবার চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, শি জিনপিং বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এক বিবৃতিতে বলেন, শির এই ঐতিহাসিক সফর চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে গঠনমূলক ও স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
এ ছাড়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) নেতাদের বৈঠক এবং জি-২০ সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করার বিষয়ে দুই দেশ সম্মত হয়েছে। দুই নেতাই অপর দেশের আয়োজিত এসব সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।
পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দুই নেতা একমত হয়েছেন যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলপথে কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠান যেন চলাচলের ওপর টোল আরোপ না করে, সে বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাস।






