ভোটাভুটির পর ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামা নিয়ে যে সিদ্ধান্ত আয়ারল্যান্ডের

উয়েফা নেশনস লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে কম নাটকীয়তা হয়নি। অনুশীলন না আসা, এমনকি নির্ধারিত সময়ে হয়নি সংবাদ সম্মেলনও। তাতে অনিশ্চয়তা দেখা যায় ম্যাচ নিয়ে। অবশেষে কেটেছে সেই অনিশ্চয়তা। ম্যাচ শুরুর ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে হাঙ্গেরিতে নিজেদের মধ্যে ভোটাভুটি করে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইরিশ ফুটবলাররা।
হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে গড়াতে চলা ম্যাচটি ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরেই আয়ারল্যান্ডে বিতর্ক চলছে। ম্যাচটিতে খেলা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শনিবার সকালে আয়ারল্যান্ড দলের সদস্যরা দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা আলোচনা করেন। এরপর দুপুরের খাবারের সময় ভোটাভুটিতে অংশ নেন তারা।
পরে বিকেল আড়াইটার সংবাদ সম্মেলনে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড (এফএআই) এক মুখপাত্র জানান, ভোটে ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলার পক্ষে মত দিয়েছেন।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। কোচ হলগ্রিমসন ও এফএআইয়ের ফুটবল ডিরেক্টরকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান সংস্থাটির সিইও ডেভিড কাউরেল। তিনি বলেন, ‘খেলোয়াড়দের ভোটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কোয়াডের অন্তত সাতজন ফুটবলার ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড় ম্যাচ খেলার পক্ষে মত দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই মেনে নিয়েছে দল।
ভোটাভুটির আগে খেলোয়াড়দের মধ্যে একটি বিষয়ে ঐকমত্য ছিল-ফল যাই হোক, সবাই সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন এবং দলের ঐক্য অটুট রাখবেন। কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় বা ছোট একটি গোষ্ঠীকে সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী করা কিংবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পরিস্থিতি এড়াতেই এমন অবস্থান নেওয়া হয়।
ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের নিয়মিত গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু খেলছেন না। তিনি ম্যাচটিতে অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার পাশাপাশি দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামা নিয়ে আপত্তি ও দ্বিধার কথা জানিয়েছেন।
ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর আয়ারল্যান্ডে প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। দেশটির সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের ক্রীড়া বিষয়ক মুখপাত্র ও ডেইল এরানের সদস্য ড্যানিয়েল এনিস সিদ্ধান্তটিকে হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি খেলোয়াড়দের এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়ার জন্য এফএআই, আইরিশ সরকার ও উয়েফার ভূমিকার সমালোচনা করেন।
বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের শুরুতেই এমন একটি কঠিন ও বিতর্কিত পরিস্থিতির মুখোমুখি করা উচিত হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের জাতীয় দলের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের মাঠে নামা নিয়ে আইরিশ জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।’
এনিসের মতে, এ সিদ্ধান্তের জন্য খেলোয়াড়দের দায়ী করা উচিত নয়। বিতর্কিত পরিস্থিতির মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব ছিল আইরিশ সরকার, এফএআই ও উয়েফার।







