ভারতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১ জানুয়ারি থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৮৫ হাজার ভারতীয়কে ভিসার অনুমোদন দিয়েছে চীন।
আজ (১৬ এপ্রিল) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতে অবস্থানরত চীনা রাষ্ট্রদূত জু ফেইহং এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ৯ এপ্রিল, ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এবং কনস্যুলেটগুলো এই বছর চীন ভ্রমণকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ৮৫ হাজারেও বেশি ভিসা জারি করেছে। তাই আরও ভারতীয় বন্ধুদের চীন ভ্রমণে স্বাগত জানাচ্ছি। উন্মুক্ত, নিরাপদ, প্রাণবন্ত, আন্তরিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ চীনের অভিজ্ঞতা অর্জন করুন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের পারস্পরিক শুল্ক আপাতত ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এই শুল্ক-যুদ্ধ আবার শুরু হওয়ার আগেই ভারতকে একসঙ্গে কাজ আহ্বান জানিয়েছিল চীন। শি জিনপিংয়ের সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, ড্রাগন এবং হাতির একসঙ্গে ব্যালে ডান্স করা দরকার। এরই মাঝে ভারতীয় বন্ধুদের জন্য উদার বেইজিং।
ভারত ও চীনের মধ্যে পর্যটনব্যবস্থা সহজতর করার জন্য চীন সরকার বেশ কিছু নীতি শিথিল করেছে। যেমন-
-
অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিষ্প্রয়োজন: ভারতীয় আবেদনকারীদের এখন চীনের ভিসার জন্য আগে থেকে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে না। যে কোনো কর্মদিবসে সরাসরি ভিসা কেন্দ্রে সশরীরে হাজির হয়ে ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন।
-
বায়োমেট্রিক ছাড়: স্বল্প সময়ের জন্য চীনে ঘুরতে যাবেন যারা তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এর ফলে প্রক্রিয়াকরণের সময় হ্রাস পেয়েছে।
-
ভিসা ফি: এখন ভারতে চীনের একটি ভিসা অনেক কম খরচে পাওয়া যাচ্ছে। যা ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ভ্রমণকে আরও সাশ্রয়ী করে তুলেছে।
-
দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সময়: ভিসা অনুমোদনের সময়সীমা আরও সহজলভ্য করা হয়েছে। এর ফলে দ্রুত ভিসা ইস্যু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়িক এবং সাধারণ ভ্রমণকারীদের উভয়কেই উপকৃত হবেন এতে।
-
পর্যটন: চীন সক্রিয়ভাবে ভারতীয় পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের প্রচার করছে। উৎসব এবং গন্তব্যস্থলের মতো সাংস্কৃতিক বিষয় প্রদর্শন করে পর্যটক টানার চেষ্টা করছে।
ভারতে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং ভারত-চীন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন যে, চীন-ভারত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক একে অপরে পরিপূরকতা এবং পারস্পরিক সুবিধার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের অপব্যবহারের মুখোমুখি… দুটি বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশের উচিত অসুবিধাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য একসঙ্গে দাঁড়ানো।
যদিও ভারত ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কেও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় সামরিক অচলাবস্থা। চীনের এই পদক্ষেপকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে উন্নতি করার সদিচ্ছা জন্য একটি নরম শক্তির পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এর ফলে একে অপরে প্রতি আস্থা ফিরে পেতে পারে।
ভিসা ইস্যুর এই বৃদ্ধি ভারত ও চীনের মধ্যে সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত, ব্যবসায়িক এবং পর্যটন বিনিময়কে উৎসাহিত করার জন্য নতুন করে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার প্রতিফলন। চীন দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে যারা মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করছেন তাঁদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্য।
হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী চীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। মহামারীর কারণে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার কারণে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন। ভ্রমণ পুনরায় শুরু করার বিষয়টিকে অনেকেই স্বাগত জানিয়েছেন।







