ঢাকা মহনগর পুলিশের গুলশান বিভাগের ট্রাফিক সার্জেন্ট মোর্শেদার সহায়তায় বাড্ডার নতুন বাজারের ফুটপাথে সন্তান প্রসব করেছেন এক মা। বর্তমানে ফুটফুটে শিশু সন্তান ও মা দু’জনেই সুস্থ আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি এখন ভাইরাল। নেটিজেনদের ‘মানবিক’ পুলিশ সার্জেন্ট হিসেবে বাহবা পাচ্ছেন মোর্শেদা। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও সাধুবাদ পাচ্ছেন সার্জেন্ট মোর্শেদা ও কনস্টেবল তানিয়া।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাড্ডার নতুন বাজারের রাস্তায় বসে হঠাৎ প্রসব বেদনায় চোখেমুখে অন্ধকার দেখছিলেন সদ্য মা হওয়া নারী। এমন অবস্থায় তার পাশে দাঁড়ান একজন নারী পুলিশ সদস্য। তিনি ডিএমপির গুলশান ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মোর্শেদা। অন্য একজন নারী কনস্টেবল তানিয়াকে নিয়ে খবর শুনেই ছুটে যান প্রসব বেদনায় কাতরানো নারীর কাছে। আশপাশের বাস কাউন্টারের ছাতা নিয়ে গড়ে তোলেন বেষ্টনী। কিছু সময় পর স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নেয় ফুটফুটে শিশু। শুধু তাই নয়, সন্তান জন্ম নেওয়ার পর নাড়ি কাটা নিয়ে জটিলতায় এই সার্জেন্ট ৯৯৯-এ ফোন করে জরুরী অ্যাম্বুলেন্সে করে নিকটস্থ হাসপাতালে ওই নারীকে সন্তানসহ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
সার্জেন্ট মোর্শেদা বলেন, আমি সড়কের যানজট কমানো নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। এর মধ্যে এক ব্যক্তি এসে জানাল নতুন বাজারে ফুটওভার ব্রিজের নিচে একজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। আমি দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ পার হয়ে তার কাছে যাই। যাওয়ার পর তাকে আগলে ধরি। এক পথচারী নারীকে সহায়তা করতে অনুরোধ করি। অল্প সময়ের মধ্যেই সন্তান প্রসব হয়।
তিনি বলেন, ‘ওই নারীর স্বামী একটি রেষ্টুরেন্টের কর্মচারী। তারা রাজধানীর বেরাইদ এলাকায় থাকেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আমি অনুরোধ করেছি, যাতে চিকিৎসা ব্যয়ে ডিসকাউন্ট দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডিসকাউন্ট দেওয়ার কথা দিয়েছে।’
শনিবার দুপুরে নতুন বাজারের উপশম হেলথ পয়েন্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ হাসপাতালের ডাক্তাররা তাদের ছাড়পত্র দিয়েছে। আজ দুপুরে সোয়া ১২টার দিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ওই সময় সার্জেন্ট মোর্শেদা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজেও ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। মা ও নবজাতক সুস্থ আছেন।’
পুলিশের গুলশান ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) হাফিজুর রহমান রিয়েল বলেন, টিম ট্রাফিক গুলশানের পক্ষ থেকে এরকম মহানুভবতা ও ভালো কাজের জন্য সার্জেন্ট মোর্শেদা ও কন্সটেবল তানিয়াকে আমরা সাধুবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।








