বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে পিএসজি। ম্যাচের পর ফ্রেঞ্চ জায়ান্টদের তারকা ফরোয়ার্ড কাইলিয়ান এমবাপে নিজের পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট হয়ে পরাজয়ের দায় স্বীকার করেছেন।
ফ্রান্সের বিশ্বজয়ী ফুটবলারের মতে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করাই হারের কারণ। যার মধ্যে তিনি নিজেও কয়েকটি সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি। গোটা ম্যাচে তিনি মোট পাঁচটি শট নেন, যার তিনটি ছিল লক্ষ্য বরাবর। যদিও তাকে অনেকাংশে বোতলবন্দি রাখতে সক্ষম হন ডর্টমুন্ডের ডিফেন্ডার ম্যাটস হুমেলস। কর্নার কিক থেকে ৩৫ বর্ষী এ জার্মান হেডে ম্যাচের একমাত্র গোলটিও করেন।
ম্যাচ শেষে ২৫ বর্ষী এমবাপে বলেছেন, ‘আমার দলকে যতটা সম্ভব সাহায্যের চেষ্টা করেছি। কিন্তু যথেষ্ট করতে পারিনি। যখন আমরা ডি বক্সে দক্ষ হওয়ার কথা বলি, তখন আমিই লক্ষ্যবস্তু বলে মনে করি। আমি এমন এক ব্যক্তি যার গোল করা এবং এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ।’
‘যখন ব্যাপারগুলো ইতিবাচক হয়, সকল মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার বিষয়টা গ্রহণ করি। আর যখন ইতিবাচক কিছু ঘটে না, আপনাকে দায় নিতে হবে। এটা কোন সমস্যা নয়। আজ রাতে প্রথম যার গোল করা উচিৎ ছিল, সেই ব্যক্তিটা আমি। এটাই জীবন এবং আমাকে ও আমাদের দলকে এগিয়ে যেতে হবে।’
পার্ক ডে প্রিন্সেসে মঙ্গলবার রাতে প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল পিএসজি। শট নিয়েছিল মোট ৩০টি, যেখানে ডর্টমুন্ড ৭টির বেশি নিতে পারেনি। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও ফরাসি ক্লাবটিকে হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়। স্বাগতিকদের চারটি শট দুর্ভাগ্যজনকভাবে গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। এমবাপের দাবি অবশ্য ভিন্ন। তার মতে, পিএসজি দুর্ভাগা ছিল না; বরং মাঠে যথেষ্ট ভালো খেলেনি।
‘প্রতিপক্ষ আমাদের চেয়ে ভালো ছিল কিনা, জানি না। তাদের অপমান করার দরকার নেই। বিনয়ের সাথে বলছি, তারা নিজেদের ও আমাদের ডি বক্সে উঁচুমানের ছিল। দুই-একবার আমাদের ডি বক্সের মধ্যে এসেছিল এবং গোল পেয়েছিল। প্রায়শই তাদের ডি বক্সের ভেতর আমরা গিয়েছিলাম এবং গোল করতে পারিনি। এটাই আসল সত্য।’
‘দুর্ভাগ্য নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না। যখন ভালো খেলতে থাকেন, তখন পোস্টে বল আঘাত করে না, ভেতরে ঢুকে যায়। আজকে আমরা আক্রমণাত্মক থাকলেও মাঠে যথেষ্ট ভালো ছিলাম না।’
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মৌসুম শেষে পিএসজি ছাড়ছেন কাইলিয়ান এমবাপে। ফরাসি ক্লাবে তার বিদায়ী মৌসুমটি বেদনার হয়ে রইল বলা যায়। বহু আগে থেকেই আলোচনা পরবর্তী ঠিকানা হবে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী গ্রীষ্ম মৌসুমে ট্রান্সফার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ফ্রেঞ্চ তারকা কেবল সাংবাদিকদের দিকে চোখ ঘুরিয়ে চলে যান।








