৭ জুন বিশ্ব ক্যান্সার সার্ভাইভার দিবস উপলক্ষে ক্যান্সার আক্রান্ত ও সার্ভাইভারদের চিকিৎসা, সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সমন্বিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের দাবি।
শনিবার (৬ জুন ) বিশ্ব ক্যান্সার সার্ভাইভার দিবস ও সার্ভাইভার মাস উপলক্ষে ক্যান্সার আক্রান্ত ও সার্ভাইভারদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানবিক সমাজ গঠনে সমন্বিত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সেন্টার ফর ক্যান্সার কেয়ার ফাউন্ডেশন (সিসিসিএফ)।
সংগঠনটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আন্তর্জাতিকভাবে ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার পর থেকে চিকিৎসা-পরবর্তী জীবন পর্যন্ত একজন ব্যক্তিকে ক্যান্সার সার্ভাইভার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি ও সার্ভাইভারদের অধিকার, প্রয়োজন এবং জীবনমানের বিষয়গুলোকে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সিসিসিএফের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সার্ভাইভারশিপ কেয়ার, কাউন্সেলিং এবং পুনর্বাসন সেবা চালু থাকলেও বাংলাদেশে এ খাত এখনও পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি। ফলে ক্যান্সার সার্ভাইভারদের জন্য সমন্বিত পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
সিসিসিএফের প্রধান দাবিসমূহ- জাতীয় ক্যান্সার তহবিল গঠন, ক্যান্সারের ওষুধের দাম কমানো, বিশেষ স্বাস্থ্য কার্ডের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এবং বেসরকারি হাসপাতালে সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা, মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক ক্যান্সার ইউনিট, কেমোথেরাপি ও প্যালিয়েটিভ কেয়ার চালু, রোগীদের জন্য পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণ, ঢাকায় রোগী নিবাস স্থাপন ও গণপরিবহনে বিশেষ সুবিধা প্রদান সমাজভিত্তিক ক্যান্সার রেজিস্ট্রি চালু এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করা।
সংগঠনটি আরও বলেছে, ক্যান্সার শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তাই ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি ও সার্ভাইভারদের প্রতি সমাজে ইতিবাচক, সহানুভূতিশীল ও সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা জরুরি। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিসরে তাঁদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ক্যান্সার নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা, ভয় ও সামাজিক কলঙ্ক দূর করতে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় সিসিসিএফ।
সংগঠনটি জানায়, ২০২৩ সাল থেকে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে সমাজে অবদান রাখা সার্ভাইভারদের সম্মাননা প্রদান করে আসছে তারা। গত তিন বছরে ২৯ জন ক্যান্সার সার্ভাইভারকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এ বছর ২৮ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাতজন ক্যান্সার সার্ভাইভারকে ‘ক্যান্সার সার্ভাইভার সম্মাননা’ প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জিন বিজ্ঞানী, গবেষক ও বিজ্ঞান লেখক ড. আবেদ চৌধুরী।
উল্লেখ্য, সিসিসিএফ একটি অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক প্রতিষ্ঠান। ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি, সার্ভাইভার, তাঁদের পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে গঠিত এ সংগঠনটি ক্যান্সার কাউন্সেলিং, তথ্যসেবা, সচেতনতামূলক কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ এবং নারীদের জন্য সেলফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশন প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
বিশ্ব ক্যান্সার সার্ভাইভার দিবস উপলক্ষে দেশের নাগরিক, নীতিনির্ধারক, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনসমূহকে ক্যান্সার আক্রান্ত ও সার্ভাইভারদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সিসিসিএফ।







