ডিএনএ পরীক্ষায় রাজপরিবারের সঙ্গে পিতৃত্বের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় ২৬ বছর বয়সে রাজপুত্রের স্বীকৃতি পেয়েছেন বেলজিয়ামের এক গাড়ি বিক্রেতা। ক্লেমাঁ ভানডেনকার্কহোভ নামের ওই ব্যক্তি দেশটির রাজা ফিলিপের ছোট ভাই প্রিন্স লরাঁর ছেলে হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি পেয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে স্থানীয় একটি টাউন হলে ঘরোয়া আয়োজনে পিতৃত্বের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর বেলজিয়ামের সিভিল রেজিস্ট্রিতে ভানডেনকার্কহোভকে নিজের ছেলে হিসেবে নিবন্ধন করেন ৬৩ বছর বয়সী প্রিন্স লরাঁ।
ভানডেনকার্কহোভের মা বেলজিয়ান গায়িকা ওয়েন্ডি ভান ওয়ানটেন, যার আসল নাম আইরিস ভানডেনকার্কহোভ। ১৯৯০-এর দশকে প্যারিসের একটি ফ্যাশন শোতে পরিচয়ের পর লরাঁর সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তবে সেই সম্পর্ক বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
ভানডেনকার্কহোভ ২০০০ সালের আগস্টে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি যখন ১৬ বছর বয়সী, তখন তার মা তাকে জানান যে প্রিন্স লরাঁই তার বাবা।
এর চার বছর পর বাবাকে বিষয়টি জানান ভানডেনকার্কহোভ। এরপর লরাঁ ডিএনএ পরীক্ষায় সম্মতি দেন। পরীক্ষার জন্য দুজন একসঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলেন বলে ভানডেনকার্কহোভ জানান।
বেলজিয়ান টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিএমকে তিনি বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমার মনে আছে, তিনি বলেছিলেন, আমি আগে পরীক্ষা করব, যাতে তুমি স্বস্তি বোধ করো।’
ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর বাবা ও ছেলের মধ্যে খোলামেলা ও সৎ আলোচনা হয়েছে বলেও জানান ভানডেনকার্কহোভ।

রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় তিনি প্রিন্স লরাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে তার সৎবোন প্রিন্সেস লুইস এবং সৎভাই প্রিন্স নিকোলা ও প্রিন্স আয়মেরিকের সমান উত্তরাধিকার অধিকার পাবেন। লুইস, নিকোলা ও আয়মেরিক লরাঁ ও তার স্ত্রী প্রিন্সেস ক্লেয়ারের সন্তান।
তবে ভানডেনকার্কহোভ কোন রাজকীয় ভাতা পাবেন না। তাকে কোন সরকারি বা রাজকীয় দায়িত্বও পালন করতে হবে না। একই সঙ্গে বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকারও তার নেই।
চাইলে বাবার পারিবারিক নাম ‘স্যাক্স-কোবুর্গ’ গ্রহণ করতে পারেন তিনি। তবে নিজের মায়ের দেওয়া ‘ভানডেনকার্কহোভ’ নামটিই রাখতে চান বলে জানিয়েছেন।
ফ্লেমিশ দৈনিক হেট নিউসব্লাদকে তিনি বলেন, ‘আমি ভানডেনকার্কহোভ নাম নিয়ে গর্বিত। এই পারিবারিক নাম ত্যাগ করলে আমার মা আমার জন্য যা করেছেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।’
বেলজিয়ামের রাজপরিবারে গোপন পিতৃত্বের ঘটনা অবশ্য এই প্রথম নয়। প্রিন্স লরাঁর বাবা এবং বেলজিয়ামের সাবেক রাজা, বর্তমানে ৯২ বছর বয়সী, দীর্ঘদিন পিতৃত্বের একটি আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০২০ সালে তিনি স্বীকার করেন, এক বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
পরে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ডেলফিন বোল রাজকন্যার মর্যাদা পান। বর্তমানে তিনি ‘ডেলফিন দ্য স্যাক্স-কোবুর্গ’ নাম ব্যবহার করেন।









